মোঃ নাজমুল হক // চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি:-
একসময় চুয়াডাঙ্গা জেলা মানেই ছিল সুপরিচিত পান চাষের অঞ্চল। জেলার বিভিন্ন এলাকায় সারি সারি সবুজ পানের বরজ ছিল মানুষের গর্ব ও জীবিকার প্রধান উৎস। কিন্তু এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। বরজে আগের মতো পান নেই, আছে শুধু বাঁশের সাউনি, খুঁটি আর কাঠামো। ফলন কমে যাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি নেই।
কৃষকদের অভিযোগ, পানের বরজ আগের মতো দীর্ঘদিন টিকছে না। কয়েক বছর ভালো ফলন দিলেও হঠাৎ করেই বরজে দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন রোগ। বিশেষ করে “বচন” ও “মরা রোগ” নামে পরিচিত রোগে একের পর এক গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একসময় যে বরজে ঘন সবুজ পাতা ঝুলে থাকত, এখন সেখানে অনেক জায়গায় ফাঁকা পড়ে আছে।
একজন চাষি জানান, একটি বরজ তৈরি করতে লাখ লাখ টাকা খরচ হয়। বাঁশ, খুঁটি, ছাউনি, শ্রমিকসহ নানা খরচ মিটিয়ে যখন ফলনের আশা করা হয়, তখনই রোগে সব শেষ হয়ে যায়। অনেকেই ব্যাংক ঋণ বা ধারদেনা করে বরজ করেছেন। এখন ফলন না থাকায় ঋণের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, আবহাওয়া পরিবর্তন, অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে রোগের প্রকোপ বাড়ছে। পাশাপাশি সঠিক পরিচর্যা ও সময়মতো পরামর্শের অভাবেও ক্ষতি বাড়ছে।
কৃষকদের দাবি, দ্রুত কৃষি বিভাগের নজরদারি বাড়ানো, রোগ নির্ণয় ও প্রতিকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং সহজ শর্তে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হোক। ন্যায্য দাম পেলে ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে তারা আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
চুয়াডাঙ্গার পান এই অঞ্চলের ঐতিহ্য ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এই খাতকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। না হলে একসময় বরজে থাকবে শুধু কাঠামো, আর কৃষকের স্বপ্ন ভেঙে যাবে নীরবে।
যোগাযোগ
বার্তা বিভাগঃ 01883-306048
ই-মেইল: shadhinsurjodoy@gmail.com
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বাধীন সূর্যোদয় | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।