মো: ফেরদৌস ওয়াহিদ সবুজ, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে একটি প্রকল্প চালুর আশ্বাস দিয়ে বহু যুবককে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বাদিয়াখালী দুঃস্থ মাতা মহিলা সমিতি (BDMMS)” নামে একটি প্রতিষ্ঠান।
জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রশিক্ষণ ও চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার আশ্বাস দিয়ে নিয়োগ দেয়ার প্রলোভ দেখিয়ে প্রতি ব্যক্তির নিকট থেকে ৩০-৪০ হাজার টাকা করে দাবি করছে অনেক ভুক্তভোগী। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন যুবক টাকা জমা দিয়েছেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তবে প্রতিশ্রুত প্রকল্পের কার্যক্রম, সরকারি অনুমোদন কিংবা তহবিলের উৎস সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের আব্দুর সামাদের ছেলে বুলবুল নামে এক জেলা সমন্বয়কারী নিয়োগে তার মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের সেন্টারপাড়া এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে প্রতারণার আর একটি প্রকল্পের কার্যক্রম চলছে। কিন্তু স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে প্রকল্পের সঠিক তথ্য-উপাত্ত নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে সন্দেহজনক বলে মন্তব্য করেছেন।
ইতিপূর্বে স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আবারো লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ফাঁদ পেতেছে বাদিয়াখালি দুঃস্থ মাতা মহিলা সমিতির (বিডিএমএমএস) কথিত পরিচালক উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের ঘোড়াবান্দ গ্রামের মাসুদ রানা এবং তার স্ত্রী টুম্পার বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে দিনাজপুরের একটি স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হতে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার মাসিক বেতনে টিম লিডার, প্রকল্প পরিচালক, ওয়াস ইঞ্জিনিয়ার, প্রতিবন্ধি উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, জেলা সমন্বকারী, লজিষ্টিক সহকারী, পিয়ন, আয়া ইত্যাদি পদে দাতা সংস্থা "হেরিটেজ এ্যাকশন, ইউএসএ” এর অর্থায়নে ৩ বছর মেয়াদে ২৮৬ জন লোক গাইবান্ধা, কুষ্টিয়া, নওগাঁ ও দিনাজপুর জেলার জন্য নিয়োগ করা হবে।
জেলার বিরল উপজেলার নেহারাব আলীর ছেলে সেলিম আহমেদের সাথে কথা হলে তিনি জানান,আমার স্ত্রী লাবনীকে চাকরি দেওয়ার বলে ৬০ হাজার টাকা নিয়েছে মাসুদ রানা। বর্তমানে মাসুদকে কল করলে কল রিসিভ করেন না। আমিও প্রতারিত হয়েছি।
প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সূত্রে দুঃস্থ মাতা মহিলা সমিতি'র বিষয়ে খোঁজ নিতে বীরগঞ্জ উপজেলার সেন্টারপাড়া গিয়ে জানা গেছে, সংস্থাটি কার্যক্রমে কোনো বৈধতা পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে জেলা সমন্বয়ক বুলবুলের জানান,আমি মাত্র ১৫ দিনের জন্য চাকুরী করে উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে এসেছি। আমি থাকাকালীন সময়ে মাসুদ ও তার স্ত্রী টুম্পা প্রায় ৫০-৬০ জনের নিকট ৩০-৪০ হাজার টাকা জামানত উত্তোলন করেছে। তিনি আরো জানান,আমি এবিষয়ে প্রতিবাদ করলে আমাকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। উল্লেখ যে, ইতিপূর্বে সংস্থাটির কথিত নির্বাহী পরিচালক মথরপাড়া গ্রামের তছলিম উদ্দিন ফকিরার ছেলে আলমগীর সলাম পূর্বেও এমনি চটকদার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
যোগাযোগ
বার্তা বিভাগঃ 01883-306048
ই-মেইল: shadhinsurjodoy@gmail.com
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বাধীন সূর্যোদয় | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।