সাইদুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি :
আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। “নদী বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে স্থানীয় কয়েকটি সামাজিক সংগঠন এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
গতকাল সকাল ১০টার দিকে শহীদ হাসান চত্বরে উন্মুক্ত মঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা শহরের মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর সেতুতে গিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন। প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা, কম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশন এবং ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধারা) যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মোঃ বিল্লাল হোসেন। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী বিশ্বাস।
আলোচনা সভায় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সি, সমাজসেবক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব লিটু বিশ্বাস, সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শেখ সেলিম, সিনিয়র সাংবাদিক এম.এম. আলাউদ্দিন, উদীচীর সভাপতি জহীর রায়হান হাবিবী, ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী মানিক ম্যাক্সিমিলিয়ান রুগা, কম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক কামরুজ্জামান এবং অন্বেষা যুব নারী কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক লিজা হুসাইন।
এ সময় প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ নদী সংরক্ষণ বিষয়ক একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার আরিফুর রহমান। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন আসাদুজ্জামান, মহিবুল হাবীব, হামিদুল ইসলাম ও খোকন মিয়া।
বক্তারা বলেন, নদী বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একসময় দেশে প্রায় ১২০০ থেকে ১৩০০টির বেশি নদী প্রবাহিত ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দখল, দূষণ, অবৈধ ভরাট এবং অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে অনেক নদী আজ সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে।
তারা আরও বলেন, কৃষি, মৎস্য এবং পরিবেশ রক্ষায় নদীর অবদান অপরিসীম। দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবিকা ও কৃষিকাজ নদী ও পানির ওপর নির্ভরশীল। অথচ শিল্পকারখানার বর্জ্য, প্লাস্টিক এবং নগর বর্জ্য নদীতে ফেলার কারণে নদীর পানি দূষিত হয়ে পড়ছে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।
বক্তারা নদী রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, নদীর সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে হবে এবং অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি নদীর নাব্যতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
তাদের মতে, নদী সংরক্ষণে শুধু সরকার নয়, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে নদী রক্ষা সম্ভব হবে।
বক্তারা সবাইকে নদী ও পরিবেশ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং বলেন, নদী রক্ষা করা মানে মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করা।
যোগাযোগ
বার্তা বিভাগঃ 01883-306048
ই-মেইল: shadhinsurjodoy@gmail.com
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বাধীন সূর্যোদয় | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।