সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় পূর্ব বিরোধের জেরে অতর্কিত হামলা চালিয়ে এক দম্পতিকে কুপিয়ে গুরুতর আহতে করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন । গত ৪ এপ্রিল (শনিবার) বিকেলে উপজেলার পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের পলিরচর গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হাজি মো. ধন মিয়া (৫০) বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৭জনের বিরুদ্ধে দোয়ারাবাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৪ এপ্রিল বিকেল আনুমানিক ৪:৩০ ঘটিকায় হাজি মো. ধন মিয়া ও তার স্ত্রী কল্পনা বেগম তাদের নিজ বাড়ি থেকে শ্রীপুর বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তারা পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের পলিরচর গ্রামের বাসিন্দা বিবাদী ছালিক মিয়ার বাড়ির সামনের রাস্তায় পৌঁছালে অভিযুক্ত ফয়জুল ও ছালিক মিয়া গং লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের পথরোধ করে অতর্কিত হামলা চালায়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিবাদী ছালিক মিয়ার হুকুমে ফয়জুল (৩৫) তার হাতে থাকা দা দিয়ে কল্পনা বেগমের মাথার পেছনে সজোড়ে কোপ দিয়ে গুরুতর জখম করেন। এরপর ছালিক মিয়াও তার হাতে থাকা দা দিয়ে হাজি মো. ধন মিয়ার মাথার ডান ও বাম পাশে পর পর দুটি কোপ দিয়ে তাকে রক্তাক্ত করেন। এসময় অন্যান্য বিবাদীরা লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে জখম করে।
উদ্ধার ও চিকিৎসা: আহতদের সুর চিৎকার শুনে সাক্ষী হাজি মো. নিজাম উদ্দিনসহ স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে বিবাদীরা মামলা না করার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত দম্পতিকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিযুক্ত যারা: লিখিত অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন— পলিরচর গ্রামের ফয়জুল (৩৫), ছালিক মিয়া (৪৫), হাফছা বেগম (৪০) এবং মাসেদা বেগম (৪০)। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৭জনকে আসামি করা হয়েছে।
আসল বিরোধের কারণ ও বাদীর বক্তব্য: হামলার কারণ সম্পর্কে বাদী হাজি মো. ধন মিয়া এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। তিনি বলেন, "আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষ। প্রায় দুই বছর আগে আমি ফয়জুল মিয়াকে ৯টি গরু বর্গা (ভাগি) দিয়েছিলাম। কিন্তু সে আমাকে না জানিয়েই ৭টি গরু বিক্রি করে দেয়। পরবর্তীতে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশের মাধ্যমে সেই ৭টি গরু উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ফয়জুল পলাতক থাকায় বাকি ২টি গরু এখনো উদ্ধার করা যায়নি। ওই গরুগুলোর কথা জিজ্ঞেস করলেই সে আমাকে প্রায়ই মারপিট করার হুমকি দিয়ে আসছিল।
তিনি আরও বলেন, "পুরানো সেই আক্রোশ থেকেই তারা পরিকল্পিতভাবে আমাদের প্রাণে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে এই অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। আমি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং আইনি প্রতিকার পেতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।"
পুলিশের বক্তব্য: দোয়ারাবাজার থানা কর্তৃপক্ষ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
যোগাযোগ
বার্তা বিভাগঃ 01883-306048
ই-মেইল: shadhinsurjodoy@gmail.com
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বাধীন সূর্যোদয় | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।