সোশ্যাল মিডিয়ায় ধর্মীয় ও নৈতিকতার লেবাস ধরে ‘মোটিভেশনাল স্পিকার’ ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে প্রতারণা, চরম নারী নির্যাতন এবং অনৈতিকতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বাইরে নিজেকে নীতিবান হিসেবে জাহির করলেও ব্যক্তিজীবনে তিনি চরম ভন্ড ও মানসিক নির্যাতনকারী বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী এক তরুণীর পরিবার ও এলাকাবাসী।
সম্প্রতি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের ভানুবিল গ্রামের দুবাই প্রবাসী খালিস ওরফে বাদশাহ নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এসব একাধিক অভিযোগের পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।
স্থানীয় ‘দৈনিক পাতাকুড়ির দেশ’ পত্রিকাসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ওই ব্যক্তির আসল রূপ উন্মোচন করে বিচার দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, বিয়ের আগে মেয়ের চোখের সামান্য সমস্যা ও চশমা ব্যবহারের বিষয়টি পাত্রপক্ষ জানলেও বিয়ের পর সেটিকে অজুহাত বানিয়ে মেয়েকে মানসিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়। এমনকি তাকে "কানা" বলে চরম অপমান করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, বিয়ের পর মেয়েকে গৃহকর্মীর মতো সব কাজ করানো হতো এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক চোখের অপারেশনের চাপ সৃষ্টি করা হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে জানা যায়, অপারেশনের কোনো প্রয়োজন নেই, শুধু নিয়মিত চশমা ব্যবহার করলেই চলবে। কিন্তু এরপরও মেয়েটিকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং হুমকি দেওয়া হয় যে, চশমা ছাড়া (অর্থাৎ অপারেশন ছাড়া সম্পূর্ণ সুস্থ না হলে) তাকে আর স্বামীর বাড়িতে নেওয়া হবে না।
অভিযোগ উঠেছে, এই প্রবাসী আড়ালে মানব পাচার চক্রের সাথে জড়িত। ‘ফ্রি ভিসা’র কথা বলে একেকজন মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রবাসে উট ও ছাগল চরানোর মতো নিম্নমানের কাজে বাধ্য করছেন। এমনকি নিজের সম্বন্ধীকেও (শ্যালক) টাকার বিনিময়ে বিদেশে নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করছেন।
সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে ওই প্রবাসীর নিজ পরিবারে চালানো মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন নিয়ে। বিয়ের পর ঘরে কেউ না থাকার সুযোগে শ্বশুর কর্তৃক পুত্রবধূকে অনৈতিকভাবে পা টেপানোর চেষ্টা এবং দেবর কর্তৃক শ্লীলতাহানির চেষ্টার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব অনাচার স্বামীকে জানানোর পর তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার হুমকি দেন। এসব চরম মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে ওই গৃহবধূ আত্মহত্যার চেষ্টাও করেন বলে জানা গেছে।
পারিবারিকভাবে সম্পন্ন হওয়া এই বিয়েতে যে ঘটক বা মধ্যস্থতাকারী দায়িত্ব পালন করেছিলেন, এখন এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে বিচার দেওয়া হলে, ওই প্রবাসী নিজের অপরাধ ঢাকতে উল্টো সেই ঘটককে সমাজে ‘দালাল ও প্রতারক’ হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে: তাকে দেখতে আলেম-ওলামাদের মতো মনে হলেও সে আসলে মক্তব পর্যন্তও পড়াশোনা করেনি। সে একজন মিথ্যাবাদী, ভন্ড ও মানসিক রোগী। আমরা চেয়েছিলাম পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করতে, কিন্তু সে নিজে সোশ্যাল মিডিয়ায় উল্টো পোস্ট দিয়ে সাধু সাজার চেষ্টা করায় আমরা সত্য প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছি।
ভানুবিল ও আদমপুরবাসী অবিলম্বে এই নারী নির্যাতনকারী ও প্রতারকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন এবং সর্বস্তরের মানুষকে এই ভন্ডকে সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সচেতন মহলের কাছে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
যোগাযোগ
বার্তা বিভাগঃ 01883-306048
ই-মেইল: shadhinsurjodoy@gmail.com
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বাধীন সূর্যোদয় | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।