নিজস্ব প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ১২ নং আশরাফপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের কালোচৌ মজুমদার বাড়ির বাসিন্দা মোঃ আবুল কালাম আজাদ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পৈত্রিক সম্পত্তি দখলচেষ্টা, হামলা ও হয়রানির অভিযোগ এনে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিবাদী মোঃ ইসহাক মুন্সী, ইব্রাহিম খলিল ও মোঃ মাসুদ, পিতা-মৃত মমিন মুন্সী, বাদীর বোন রহিমা বেগমের কাছ থেকে ৯ শতক নালা জমি ক্রয় করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, তারা ওই জমির পাশাপাশি বাদী আবুল কালাম আজাদের পৈত্রিক সম্পত্তিসহ মোট ১৫ শতক জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, বিবাদীরা তার মালিকানাধীন জমি দখলের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় চাপ সৃষ্টি করে আসছে। এ সময় তিনি ও তার ছেলে বাধা দিলে প্রতিপক্ষ অজ্ঞাত লোকজন নিয়ে তাদের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ইব্রাহিম খলিল পূর্বে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করতেন। এছাড়াও, বিবাদীরা তার ছেলেকে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
একটি দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় “দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে তিন কিশোর নিহত” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করেছেন বাদী। ওই প্রতিবেদনে মজুমদার পরিবারের শাহজালাল মজুমদার (১৭), রায়হান মজুমদার (১৮) ও সাকিব মজুমদার (১৬) নিহত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হলেও স্থানীয় সূত্র জানায়, তারা তিনজনই জীবিত রয়েছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে ভুয়া সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে দাবি করেন আবুল কালাম আজাদ।
এছাড়াও প্রতিবেদনে উল্লেখিত কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আল আমিন নামে বর্তমানে থানায় কোনো কর্মকর্তা কর্মরত নেই বলেও জানা গেছে। একইসঙ্গে “হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে আটক” সংক্রান্ত তথ্যও সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৭ মে বৃহস্পতিবার রাতে কালোচৌ গ্রামে এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
এলাকাবাসীর সূত্রে আরও জানা যায়, বাদী মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং তার ছেলে লিমন মজুমদার ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি। তারা দীর্ঘদিন ধরে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলাফেরা করছেন। এলাকাবাসীর দাবি, তারা কখনো কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেননি এবং সবসময় আইনকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করে চলেন।
ভুক্তভোগী মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা প্রশাসন ও এলাকাবাসীর কাছে সঠিক বিচার দাবি করছি।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
যোগাযোগ
বার্তা বিভাগঃ 01883-306048
ই-মেইল: shadhinsurjodoy@gmail.com
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বাধীন সূর্যোদয় | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।