মানিক মিয়া, ভালাইপুর প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গায় রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া হাফসা জাহান মুক্তা নামের এক গৃহবধূকে তার দুই সন্তানসহ উদ্ধার করেছে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ। নিখোঁজের ঘটনার পর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়লেও অবশেষে পুলিশের তৎপরতায় তাদের সন্ধান মিলেছে।
জানা যায়, গত ১৫ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সকাল আনুমানিক ১২টার দিকে হাফসা জাহান মুক্তা তার দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে খুলনা-ঢাকাগামী চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে ইব্রাহিমাবাদ যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা চরম উদ্বেগে পড়েন।
ঘটনার পরদিন ১৬ মে ভিকটিমের স্বামী চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় উপস্থিত হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার জনাব রুহুল কবীর খানের দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জনাব মোস্তাফিজুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এবং চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। তদন্ত কার্যক্রমে অংশ নেন এসআই (নিঃ) শরীফুজ্জামান ও এএসআই শ্রী রমেন কুমার সরকার।
দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ২৩ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে সদর থানাধীন শ্রীকোল গ্রামের ওয়ায়েছিয়া পাক দরবার শরীফ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে হাফসা জাহান মুক্তা ও তার দুই সন্তানকে উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাফসা জাহান মুক্তা জানান, তিনি সুফিবাদে বিশ্বাসী। তবে এ বিষয়টি তার স্বামীর অপছন্দ হওয়ায় পারিবারিক অস্বস্তি ও মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়। সেই কারণেই তিনি সন্তানদের নিয়ে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে পুলিশের কাছে জানিয়েছেন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমদিকে অনেকেই অপহরণ বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা করলেও শেষ পর্যন্ত পুলিশি তৎপরতায় মা ও সন্তানদের খুঁজে পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, নিখোঁজ সংক্রান্ত প্রতিটি ঘটনাকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত পরিচালনা করে তাদের সন্ধান বের করা সম্ভব হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় গুজব না ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বানও জানান তারা।
এদিকে, উদ্ধার হওয়া গৃহবধূ ও তার সন্তানদের ঘিরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও নানা আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, পারিবারিক মতবিরোধ ও মানসিক চাপ কখনো কখনো বড় ধরনের ঘটনার জন্ম দেয়। তাই পারিবারিক সম্পর্কে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহনশীলতা বাড়ানো প্রয়োজন।
যোগাযোগ
বার্তা বিভাগঃ 01883-306048
ই-মেইল: shadhinsurjodoy@gmail.com
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বাধীন সূর্যোদয় | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।