স্টাফ রিপোর্টার :
২০২৬ সালের মে মাসে চুয়াডাঙ্গা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি পরিলক্ষিত হয়েছে, যা পূর্ববর্তী মাসের সামাজিক, নারী ও শিশু সহিংসতার অস্থিরতাকে ত্বরান্বিত করেছে। এ মাসে সারাদেশের মতো এ জেলাতেও নারীর প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে, যেমন: ১. দর্শনা থানার রাঙিয়ারপোতা গ্রামে ১৭ ই মে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। ২. জীবননগর উপজেলার মাধবখালী এলাকায় শনিবার (১৬ মে) বিকেল ৫টার দিকে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও গাছের ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। ৩. চুয়াডাঙ্গার কুন্দিপুর গ্রামে এক কিশোরীকে (১৫) ধর্ষণের পর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও দামুড়হুদার ইব্রাহিমপুরে ৭১ বছর বয়সী বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগ সহ ছোট বড় নানা ঘটনা পরিলক্ষিত হয়েছে। অন্যদিকে নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে আলমডাঙ্গা উপজেলার ফুল বগাদী গ্রামের যুবক শিমুলের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে দুই সন্তানের জননী শ্যামলী খাতুন অবস্থান নিলে শিমুলের পরিবারের সদস্যদের দ্বারা হামলার স্বীকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দর্শনায় বাবা-মায়ের মধ্যকার পারিবারিক কলহের যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে ৯ম শ্রেণির মেয়ে আত্মহত্যা করার মত দুঃখজনক ঘটনাও ঘটেছে। চুরির সন্দেহে আলমডাঙ্গার আসাননগর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে ও দুই সন্তানের জনক দুদু (২২) নামে এক যুবককে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও জেলা প্রসাশক কতৃক সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মে মাসে। মাসের শেষদিকে সীমান্তে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় ১০ জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। ফলে নানামুখি অনিরাপত্তার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।
উক্ত ঘটনাগুলোর প্রেক্ষিতে হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার সোসাইটির চুয়াডাঙ্গা শাখার সভাপতি আরিফুল ইসলাম বলেন:
চুয়াডাঙ্গা জেলার সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে সংঘটিত ধারাবাহিক সহিংস ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছি। ২০২৬ সালের মে মাসজুড়ে জেলায় অপহরণ, ধর্ষণ, গণপিটুনি, পারিবারিক সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড এবং সামাজিক অস্থিরতার যেসব ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, তা শুধু মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনই নয়, বরং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভয়াবহ দুর্বলতার প্রতিফলন।
বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে স্কুলছাত্রী অপহরণ, কিশোরী ধর্ষণ ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, বৃদ্ধা নারী ধর্ষণের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা আমাদের সমাজের মানবিক ও নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। একই সঙ্গে পারিবারিক কলহ, সামাজিক অবক্ষয় ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি মানুষের মধ্যে হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে তুলছে। একজন কিশোরীর আত্মহত্যা, কিংবা চুরির সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ—এসব ঘটনা রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
আমরা বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করছি সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগ নিয়েও। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্য প্রকাশের অধিকার একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক উপাদান। এ ধরনের অভিযোগ স্বাধীন সাংবাদিকতা ও জবাবদিহিতার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—উল্লিখিত প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নিরাপত্তা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরাজমান অনিরাপত্তা ও অস্থিরতা দূর করতে অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আমরা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।
যোগাযোগ
বার্তা বিভাগঃ 01883-306048
ই-মেইল: shadhinsurjodoy@gmail.com
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বাধীন সূর্যোদয় | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।