লক্ষ্মীপুরে ফসলি জমির মধ্য দিয়ে জোরপূর্বক প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে শ্রমিক লীগ নেতার বিরুদ্ধে। অ'ভিযুক্ত নজরুল ইসলাম শ্রমিক লীগের জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও উত্তর হামছাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এনিয়ে স্থানীয় ও জমির মালিকদের মধ্যে ক্ষো'ভ ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নটির কালিবাজার থেকে পোদ্দার বাজার সড়কের হাসন্দী গ্রামের ইব্রাহীম মৎস্য ও পোল্ট্রি খামার সংলগ্ন এলাকার ফসলি জমিতে প্রায় ২ কিলোমিটার মাটির সড়ক তৈরি করছে অভিযুক্ত। ইউনিয়নটির ৬ এবং ৫ নং ওয়ার্ডের সংযোগ নতুন রাস্তাটির অপর প্রান্তে শ্রমিক লীগ নেতার নিজ বাড়ি। এছাড়া রাস্তার দুইপাশে তাঁর একাধিক স্বজনদের জমি রয়েছে।
অ'ভিযোগ রয়েছে, জেলা শহর ও স্থানীয় বাজার থেকে নিজ বাড়িতে সহজ যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করতে শ্রমিক লীগ নেতা ফসলি জমির মধ্য দিয়ে জোরপূর্বক এ সড়ক নির্মাণ করছেন। অথচ তার বাড়িতে যাওয়ার জন্য আগে থেকেই একাধিক পিচঢালা সড়ক বিদ্যমান রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবী, ফ্যা'সিস্ট আওয়ামী লীগের অঙ্গসহযোগী সংগঠন শ্রমিক লীগ নেতা নজরুল রাস্তাটি নির্মাণে সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে কাজটি করছেন বলে প্রচার করছেন। কিন্তু বাস্তবে এরকম কোন প্রকল্প উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দেওয়া হয়নি। তাছাড়া কাজটি তদারকিতেও সরেজমিনে কোন সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারিকে আসতে দেখা যায়নি। নজরুল ৫ আগস্ট পরবর্তী বিভিন্ন উপায়ে সরকার দলীয় (বিএনপি) লোকদের ম্যানেজ করে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করছেন। তিনি রাস্তাটি অপ্রয়োজনে জোরপূর্বক ফসলি জমির মধ্য দিয়ে করছেন বলে স্থানীয়দের দাবী।
ক্ষতিগ্রস্ত কয়কেজন জমির মালিকের অভিযোগ, চেয়ারম্যান খামখেয়ালিভাবে ফসলি জমির উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করছেন। বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যান ও শ্রমিক লীগ নেতা জমি বাবদ মূল্য দিয়ে দেওয়ার হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।
ভুক্তভোগীরা আরো জানান, কৃষি জমি নষ্ট করে চেয়ারম্যানের নতুন সড়কটির কোন প্রয়োজন ছিলো না। এর কয়েক মিটার দূরে পিচ ঢালাই করা সড়ক রয়েছে। ওই সড়কের দুই পাশে অসংখ্য মানুষের বসতঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু ফসলি জমির উপর দিয়ে হতে যাওয়া সড়কটির, দুই পাশে কোন বাড়িঘর নেই। শুধুমাত্র উপরপ্রান্তে শ্রমিক লীগ নেতার বাড়ি ও কয়েকটি পরিবারের ঘর রয়েছে। এঘটনায় নজরুলের বিচার দাবী করেন তারা।
অ'ভিযুক্ত শ্রমিক লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, নিজ সুবিধার্থে নয়। স্থানীয় মানুষের ও স্কুল-মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে রাস্তাটি নির্মাণ হচ্ছে। আর ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধিনে সড়ক নির্মাণে, জমি অধিগ্রহণের কোন বরাদ্দ থাকেনা। তবে কেউ যদি টাকা নিতে চায়, তাহলে আমি দাবিকৃত টাকা পরিশোধ করবো। তারপরেও যদি জমির মালিকগণ ও স্থানীয়রা না চায়, রাস্তা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিবো।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, উত্তর হামছাদী ইউনিয়নে ফসলি জমিতে মাটির রাস্তা নির্মাণ। এধরণের কোন বরাদ্দ ওই ইউনিয়নে দেওয়া হয়নি। তবুও চেয়ারম্যান কেন আমাদের দফতরের কাজ বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলবো।
এবিষয়ে সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমার কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
যোগাযোগ
বার্তা বিভাগঃ 01883-306048
ই-মেইল: shadhinsurjodoy@gmail.com
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বাধীন সূর্যোদয় | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।