আরিফুল হক জিসান, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় প্রকাশ্যে ধূমপান (সিগারেট) করতে নিষেধ করাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এই নৃশংস হামলায় ছাত্রদলের অন্তত ছয়জন নেতা-কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর জখম হয়েছেন।
গত শুক্রবার (২৬ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও চৌরাস্তায় এই চাঞ্চল্যকর ও ভয়াবহ হামলার ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার বিবরণ ও পূর্ববিরোধ:
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কয়েকজন কিশোর-তরুণকে প্রকাশ্যে ধূমপান করতে দেখে সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে সোনাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নাঈম হাসান (২৩) ও তাঁর সহযোগীরা বাধা প্রদান করেন। ওই সময় এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও কথাকাটাকাটি হয়।
এরই জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে পরের দিন শুক্রবার রাতে একদল সশস্ত্র যুবক নোয়াগাঁও চৌরাস্তায় ওত পেতে থাকে। ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা সেখানে পৌঁছামাত্রই ওই যুবকেরা তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং চারপাশ কাঁপিয়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন গুলিবিদ্ধ হন।
আহতদের অবস্থা ও হাসপাতালে ভর্তি:
গুলির আঘাতে গুরুতর আহতদের মধ্যে সোনাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নাঈম হাসান (২৩) ও ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আসিককে (২১) তাৎক্ষণিকভাবে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার আশঙ্কাজনক অবণতি হওয়ায় নাঈম হাসানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর চারজন আহত কর্মী সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিএনপির অভিযোগ ও পুলিশি পদক্ষেপ:
এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সোনাইমুড়ী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান অভিযোগ করেন, প্রকাশ্যে ধূমপানে বাধা দেওয়ার মতো একটি সাধারণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত এই সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তিনি অনতিবিলম্বে ঘটনার সাথে জড়িত মূল অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।
এদিকে, হামলার একটি রোমহর্ষক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর পরই নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাছির উদ্দিন দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য কঠোর নির্দেশ দেন।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "ধূমপান করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ইতোমধ্যে ১২ জনকে সুনির্দিষ্ট আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে।"
যোগাযোগ
বার্তা বিভাগঃ 01883-306048
ই-মেইল: shadhinsurjodoy@gmail.com
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বাধীন সূর্যোদয় | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।