মোঃ ইসরাফিল আজাদ,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের হয়রানি আর মুর্খতার কারণে সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঠিকাদারগণ একদিকে যেমন বিভিন্ন সমস্যায় পড়ছেন তেমনি অপরদিকে তাদের মূর্খতার কারণে টেণ্ডার সিকিউরিটির টাকাও ফেরত পাচ্ছেন না ঠিকাদার।
জানা যায়, সম্প্রতি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর স্টেশনারি( আই ডি-১২৭১৩৯৪ ) এবং পথ্য(আই ডি-১২৭১৩৯২) সরবরাহের টেণ্ডার আহবান করা হয়। টেণ্ডার ক্লোজিং তারিখ ছিল ১৮ মে’২০২৬। সে মোতাবেক ঠিকাদারগণ টেণ্ডার অংশ নেন। ১৯মে ঠিকাদারগণ খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন সংশোধনী আনার জন্য ওপেনিং তারিখ পরিবর্তন করা হয় এবং সংশোধনী অনুশরণ করে পুনঃ টেণ্ডার ড্রপ করতে বলা হয়। ঠিকাদারগণ সংশোধিত সিডিউল হাতে পেয়ে বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করেন আদতে এতে কোন সংশোধনীই আনা হয়নি বরং সিডিউলে কিছু ভুল বিদ্যমান রেখেই সিডিউল সরবরাহ করা হয় এবং ২৪ মে’২০২৬ ক্লোজিং ডেট ঘোষণা করেন।
সিডিউলে বিদ্যমান ভুলগুলো যা ঠিকাদারদের বিস্ময়ের সৃষ্টি করে তা হলো ৬নং আইটেমে(মাছ-রুই/কাতল/মৃগেল)কোথাও উল্লেখ নেই যে এসব মাছ প্রতিটি কমপক্ষে কতগ্রাম ওজনের হতে হবে। বাজারে এসব মাছ যেমন ২শ গ্রাম ওজনের পাওয়া যায় তেমনি ২ কেজি ওজনেরও পাওয়া যায় কিন্তু ওজন হিসেবে দামের ব্যাপক তারতম্য থাকে। তারা মনে করেন দুর্নীতি করার কৌশলগত কারণেই ইচ্ছাকৃত ভাবে এ ভুল করা হয়েছে। একইভাবে ১০নং আইটেমেও ( দেশি মাগুর মাছ ) কোন ওজন/সাইজ উল্লেখ করা হয়নি। তাছাড়া বাজারে আদৌ দেশি মাগুর মাছ পাওয়া যায়না। যা পাওয়া যায় তা চাষের মাগুর। এখানেও দুর্নীতি করার অভিপ্রায়ে সিডিউলে ফাঁক রাখা হয়েছে।
নির্দিষ্ট দিনে টেণ্ডার ওপেনিং ডেটে দেখা যায় সিডিউল অনুশরণ না করার কথিত ভুল দেখিয়ে অধিকাংশ ঠিকাদারের দরপত্র বতিল হয় অবশিষ্ট থাকে স্টেশনারি সরবরাহে ১জন এবং পথ্য সরবরাহে ২জন। তাদেরকে কার্যাদেশ প্রদান করাও হয়। এরপর বাতিল ঘোষিত ঠিকাদারগণ তাদের সিকিউরিটির টাকা ফেরত চাইলে পথ্য সরবরাহ কাজের টেণ্ডার সংযুক্ত সিকিউরিটির টাকা ফেরত দিলেও স্টেশনারি সরবরাহ কাজের টেণ্ডার সংযুক্ত সিকিউরিটি মানি ফেরত দিতে গরিমসি শুরু করেন। এ ব্যাপারে ঠিকাদারগন ই-জিবি অফিস(ঢাকা) যোগাযোগ করলে তারা বলেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উক্ত কাজের কার্যাদেশ প্রদান করলেই টাকা ফেরত দেয়া হবে, অথচ কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে বিষয়টি জানার পরেও তারা টালবাহানা করতে থাকে। অপরদিকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ শাকিলা আকতার এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে একজন ঠিকাদার প্রতিনিধির মাধ্যমে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তারা( ঠিকাদার) যে সিকিউরিটি মানি জমা দিয়েছেন এবং তা ফেরত চান তার আবেদন পত্র এবং প্রমাণ হিসেবে ব্যাংকের প্রত্যায়ন পত্র জমা দিতে হবে । অথচ ঠিকাদার গণ জানান ইতোপূর্বে কখনও এমন নিয়ম ছিলনা। তারা এটাও জানান যে এধরণের আবেদনপত্র, প্রত্যয়ন পত্র দেয়ার কোন বিধানও নেই। শুধুমাত্র হয়রানি করার জন্যই এ নিয়ম করা হয়েছে।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ প্রশাসনিক বিষয়ে অজ্ঞ এ ধরণের কর্মকর্তাদের হাতে টে-ারের মত গুরুত্বপূর্ন কাজ ছেড়ে দিয়ে দুর্নতির পথকে সুগম করেছেন বলে ধারণা সাধারণ ঠিকাদারদের।
যোগাযোগ
বার্তা বিভাগঃ 01883-306048
ই-মেইল: shadhinsurjodoy@gmail.com
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বাধীন সূর্যোদয় | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।