স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর),সাকিব হাসান নাইম:
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় সংঘবদ্ধ একটি ভূয়া ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) পরিচয়ধারী প্রতারক চক্র এবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষকদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। সন্তানকে মাদক মামলায় আটক করার মিথ্যা ভয় দেখিয়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে অন্তত তিনজন শিক্ষকের কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই কৌশলে আরও অন্তত ১৩ থেকে ১৪ জন শিক্ষককে ফোন করা হলেও সতর্কতার কারণে তারা প্রতারণার শিকার হননি।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় ১৫ থেকে ২০ জন ভুক্তভোগী শিক্ষক ও শিক্ষক প্রতিনিধি ঘোড়াঘাট থানায় গিয়ে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে জানা যায়, প্রতারকরা নিজেদের ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে শিক্ষকদের মোবাইলে ফোন করেন। তারা দাবি করেন, শিক্ষকদের সন্তানকে মাদকসহ আটক করা হয়েছে এবং মামলা থেকে রেহাই পেতে হলে দ্রুত বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে হবে। সন্তানদের নাম-পরিচয়সহ বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ করে তারা বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে টাকা আদায় করে নেয়।
প্রতারণার শিকার প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান জানান, প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করে তিনি ধাপে ধাপে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে মোট ৮৬ হাজার ৮০০ টাকা পাঠান। একইভাবে নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রীতি রাণী সরকার হারান ৬৭ হাজার টাকা এবং ওহিউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহাফুজা বেগম প্রতারকদের কাছে ৪১ হাজার টাকা পাঠান। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তারা বুঝতে পারেন, এটি একটি পরিকল্পিত প্রতারণা। এরপর প্রতারকদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান, শাহিনা বেগম, নাজমুননাহার ও শাহজাহান আলী। অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, প্রতারকরা সন্তানদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে দ্রুত টাকা পাঠানোর জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।
অন্যদিকে, আরও কয়েকজন শিক্ষক জানান, একই কৌশলে তাদের কাছ থেকেও ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। তবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করায় তারা প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে রক্ষা পান।
ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক প্রীতি রাণী সরকার বলেন, "আমার ছেলে ঢাকায় পড়াশোনা করে। ফোনে বলা হয়, তাকে ২১ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করা হয়েছে এবং মারধর করা হয়েছে। ছেলেকে ছাড়িয়ে আনতে হবে—এমন কথা বলে কয়েক দফায় বিকাশে টাকা পাঠাতে বাধ্য করা হয়। পরে জানতে পারি, পুরো ঘটনাই ছিল প্রতারণা।"
উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান বলেন, "পরিকল্পিতভাবে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের টার্গেট করে এই প্রতারণা চালানো হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।"
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, "ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ধরনের ফোনকল পেলে কেউ যেন আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করেন এবং দ্রুত নিকটস্থ থানাকে অবহিত করেন।"
যোগাযোগ
বার্তা বিভাগঃ 01883-306048
ই-মেইল: shadhinsurjodoy@gmail.com
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বাধীন সূর্যোদয় | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।