মোহাম্মদ মামুন উদ্দিন (নোয়াখালী, হাতিয়া)
নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন প্রধান সড়কের কাজকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাকর্মী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলা সদরের আদালত ভবনসংলগ্ন প্রধান সড়কে এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন এনসিপির শ্রমিক শক্তির উপজেলা আহ্বায়ক আবির, সুখচর ইউনিয়ন এনসিপির সদস্য সচিব ইসমাইল ও নেতা হৃদয়। অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার শামীম এবং কর্মচারী নাহিদ ও সোহরাব আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে হাতিয়ার ১১ কিলোমিটার প্রধান সড়কের উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করছে মেসার্স জামাল ইঞ্জিনিয়ারিং। প্রকল্পের কাজ শুরুর পর থেকেই নির্মাণমান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এর আগেও একই অভিযোগে কয়েক দফা কাজ বন্ধ ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, শনিবার আদালত ভবনের সামনে গাইড ওয়ালের ঢালাই চলাকালে এনসিপির নেতারা নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলে কাজে আপত্তি জানান। এ সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এনসিপির শ্রমিক শক্তির উপজেলা আহ্বায়ক আবির অভিযোগ করেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে দুর্বল গাইড ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছিল। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বললে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তাদের তিনজন আহত হন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল উদ্দিন রাশেদ বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আগেই প্রশাসনিক বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং কোনো ত্রুটি প্রমাণিত হয়নি। তাঁর দাবি, স্থানীয় জনগণ দ্রুত কাজ শেষ করতে চান। শনিবারও অযৌক্তিকভাবে কাজে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে টাকার দাবির যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) নোয়াখালীর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মহিবুল্লাহ সুমন জানান, একই গাইড ওয়াল নিয়ে দুই দিন আগে অভিযোগ উঠেছিল। পরে অধিদপ্তরের নির্দেশে পুরোনো ইট পরিবর্তন করে নতুন ইট দিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। তাই একই বিষয় নিয়ে পুনরায় আপত্তি তোলার যৌক্তিকতা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবীর হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যোগাযোগ
বার্তা বিভাগঃ 01883-306048
ই-মেইল: shadhinsurjodoy@gmail.com
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বাধীন সূর্যোদয় | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।