বিশেষ প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার:
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সীমাহীন অনিয়ম, অনিয়ন্ত্রিত লোডশেডিং এবং ভূতুড়ে বিলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। তীব্র গরমের মধ্যে ১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে টানা ২ ঘণ্টা হাওয়া হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এই অবহেলা ও অনভিপ্রেত আচরণকে অমানবিক উল্লেখ করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।
জেলা জুড়ে দিন কিংবা রাত—কোনো নিয়ম ছাড়াই ঘণ্টা পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। সেই সঙ্গে তীব্র গরমে বাসাবাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বৃদ্ধ ও শিশুরা।
বিদ্যুৎ না পেয়েও মাস শেষে মিলছে আকাশচুম্বী ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল। কোনো কারণ ছাড়াই বিগত মাসগুলোর তুলনায় দ্বিগুণ বা তিনগুণ বিল হাতে পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকা সত্ত্বেও সমিতি থেকে কোনো আগাম বার্তা দেওয়া হয় না। গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে ফোন দিলে মেলে না কোনো সদুত্তর, বরং দেওয়া হয় দায়সারা বক্তব্য।
ভুক্তভোগী এক গ্রাহক আক্ষেপ করে বলেন, "২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। ১ ঘণ্টা পর পর বিদ্যুৎ চলে যায়, আসে ২ ঘণ্টা পর। অথচ মাস শেষে বিল আসে ডাবল! বিদ্যুৎ সমিতির এই নৈরাজ্য আর সহ্য করা যায় না।"
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষ জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের ঘাটতি ও যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাত দেখালেও অতিরিক্ত বিলের কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। দ্রুত এই লোডশেডিংয়ের লাগাম টানা এবং ভূতুড়ে বিলের সুরাহা না হলে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা।
যোগাযোগ
বার্তা বিভাগঃ 01883-306048
ই-মেইল: shadhinsurjodoy@gmail.com
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বাধীন সূর্যোদয় | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।