নিজস্ব প্রতিবেদক
মতামত
যে কোন সরকারের ছোট ছোট অনেক সাফল্যের মাঝে বড় একটা ভুল বা ব্যর্থতা দেশবাসীকে বিক্ষুব্ধ করবে। সরাসরি বিদ্যুৎ সুবিধা এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সাথে দেশের প্রতিটি মানুষ, আলোকিত কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত। বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ কি? সত্য বাস্তব সঠিক বিষয়গুলো সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চয়ই দেশবাসীকে ভালো ভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না! কিন্তু কেন? এখনো মানুষ সত্যের পক্ষে থাকতে চায়, দেশবাসীকে আন্তরিক ভাবে বুঝাতে হবে, বিশ্বাসযোগ্য তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি দ্রুত উত্তরণের উপায় বের করতে হবে। মানুষকে আশ্বস্ত করতে হবে বিশ্বস্ততার সহিত, বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে সমগ্র দেশবাসী চরম অস্বস্থিতে, এর মধ্যে বিদ্যুৎ মন্ত্রীর বক্তব্য অনভিপ্রেত অযুক্তিক হাস্যকর, কোন ভাবেই একজন মাননীয় মন্ত্রীর বক্তব্যে এমনটা হতে পারেনা। নিশ্চয়ই আগের সরকারের তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন অনেকটা কমে গেছে, কুইক রেন্টালের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকার অনিয়ম দূর্নীতি হয়েছিল। অনেক কোম্পানির মোট সম্পদ এক হাজার কোটি টাকা, কিন্তু তারা অতি সুকৌশলে ব্যাংক থেকে চার/পাঁচ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে এখন খেলাপি, অনেক পাওয়ার প্লান্ট ঋণ পরিশোধের প্রেশারে অনেকটা ইচ্ছাকৃত উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে, তারা তো ব্যাপক লাভে আছে। অন্য দিকে বিগত সরকারের সুবিধাভোগী আওয়ামী অফিসার এবং গুপ্ত প্রকৃতির কর্মকর্তারা বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বে যারা আছে তারা সুকৌশলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট সহ গ্রাহকের কাছে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল পাঠিয়ে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে মানুষকে ফুঁসিয়ে তুলছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
মানুষের মৌলিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চাহিদার মধ্যে অন্যতম জনগুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অধিকার বিদ্যুৎ। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের কারণে মানুষ যদি কষ্ট না পায় তাহলে সরকার পরিচালনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে বাকী চ্যালেঞ্জ মুকাবিলা খুব সহজ হয়ে যাবে। বলা যায় ৭০% চাপ চ্যালেঞ্জ কমে যাবে, বিরোধী দলের সরকারবিরোধী আন্দোলনের তেমন সুযোগই থাকবে না। সরকারকে ব্যর্থ করার ভয়ংকর গভীর ষড়যন্ত্র চলছে, চলবে! যারা বিদ্যুৎ গ্যাসের দাবীতে হারিকেন হাতে আন্দোলন করছে তারা কি দেশপ্রেমিক নাকি ক্ষমতা লোভী? দুই এক'জন মন্ত্রীকে অপসারণ করলে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে, সেই ব্যর্থ মন্ত্রীদের কারণে সরকারের অনেক ভালো উদ্যোগ সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা নেতাদের কোন ভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।
বিশ কোটি মানুষের দেশে শুধু মাত্র একজন প্রধানমন্ত্রী সৎ মহৎ মানবিক হলেই রাষ্ট্র সুন্দর হবে না! প্রথমত মহান জাতীয় সংসদের সকল এমপি মন্ত্রীকে হতে হবে দূর্নীতিমুক্ত ন্যায়পরায়ণ শতভাগ দেশপ্রেমিক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নীতি চিন্তা প্রদক্ষেপ বাস্তবায়নের উপর থাকতে হবে দৃঢ় অবিচল, তবেই বিশ কোটি মানুষকে আলোর পথে নিয়ে আশা সম্ভব। একজন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুধু ভালো হলে হবে না, বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী সহ ২০কোটি মানষকে হতে হবে তাঁর মতো কঠিন কর্মট অপরাধমুক্ত। তিনি তাঁর বাবার মতো করে শুরু করেছেন, তার চাইতেও ভালো কিছু করার দৃঢ় সংকল্প বার বার পূর্ণব্যক্ত করছেন। এটাই দেশবাসীর শান্তি কল্যাণ ও রাজনীতির সৌন্দর্যের জন্য বড় একটা পরিবর্তন।
জনাব তারেক রহমানকে যদি দেশের মানুষ আন্তরিক ভাবে দোয়া সহযোগিতার মাধ্যমে সমর্থন দেন নিশ্চয়ই তিনি আমাদের জন্য সুন্দর আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন। সম্মিলিত ভাবে বেয়াদবদের সকল অপতৎপরতা রুখে দিতে হবে, তবেই আমরা পাবো জতীয় সমৃদ্ধি, গৌরব করার মতো স্বাধীনতার অর্জন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদ বীরদের স্বপ্ন আকাঙ্ক্ষার একটি বাংলাদেশ।
লেখকঃ- মোঃ নিজাম উদ্দিন, সাবেক চেয়ারম্যান
উত্তর খুরমা ইউনিয়ন পরিষদ, ছাতক সুনামগঞ্জ।
সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি।
যোগাযোগ
ই-মেইল: shadhinsurjodoy@gmail.com
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বাধীন সূর্যোদয় | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।