
বিশেষ ক্রাইম রিপোর্টার | ঢাকা উত্তর
পারিবারিক বিশ্বাসভঙ্গ, অনৈতিক সম্পর্ক, জোরপূর্বক বিয়ে এবং চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর মা-ছেলের সর্বস্ব লুটে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার এক ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মো. মাসুদ (পিতা: নূর মোহাম্মদ গাজী) নগদ অর্থ ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়ে বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক যুগ আগে এক সন্তানসহ এক নারীকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন মাসুদ। ওই নারীর সন্তান পেশায় একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাবরেটরি মেডিসিন)। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে ছেলেটি মাসুদকে নিজের গর্ভধারক পিতার মতোই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দিয়ে আসছিলেন। পরিবারের ভরণপোষণ ও আর্থিক সচ্ছলতার জন্য মা ও ছেলে উভয়েই মাসুদের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছিলেন।
তবে ২০২৫ সালে মাসুদের আসল রূপ প্রকাশ পেতে শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, মাসুদ মানসিক চাপ, হুমকি ও ব্ল্যাকমেইল করে ছেলেটিকে তানিয়া আক্তার স্বর্ণা নামের এক মেয়ের সাথে বিয়ে করতে বাধ্য করেন। বিয়ের কিছুদিন পর ছেলেটি অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানতে পারেন, বিয়ের বহু পূর্ব থেকেই মাসুদ তার সৎ ছেলের এই নবপরিণীতা স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। মূলত নিজের অবৈধ সম্পর্ক নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যেই তিনি এই বিয়ের ফাঁদ পাতেন।
অপকর্মের বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে পরিবারটিতে শুরু হয় চরম অশান্তি। ছেলেটি ও তার মা এই অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ করলে মাসুদ তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে মাসুদ এবং ওই পুত্রবধূ যোগসাজশ করে ছেলের উপার্জিত জমানো টাকা ও পরিবারের আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেন। প্রতিবাদ করায় মাসুদ ছেলেটিকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর জখম করেন এবং মায়ের ওপরও চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান। একপর্যায়ে পরিস্থিতি ধামাচাপা দিতে মাসুদ সুকৌশলে ওই পুত্রবধূকে তার বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাতে ঘটে চূড়ান্ত ঘটনাটি। ওই রাতে মাসুদ পরিবারের সবাইকে ফাঁকি দিয়ে তারাবির নামাজ পড়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন। পরবর্তীতে দেখা যায়, তিনি বাসা থেকে ছেলেটির কষ্টের জমানো নগদ অর্থ এবং মায়ের জীবনের সঞ্চয় করা সমস্ত স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছেন। তদন্তে আরও প্রকাশ পায়, পালিয়ে যাওয়ার সময় মাসুদ সৎ ছেলের বউ তানিয়াকে সাথে নিয়ে পালানোর উদ্দেশ্যে মাত্র ৫০০ টাকা দিয়ে যান, যদিও তানিয়া শেষ পর্যন্ত পালাতে ব্যর্থ হন।
বর্তমানে চরম নিঃস্ব ও নিরাপত্তাহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী মা ও ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাসুদের বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মোস্তাফিজুর রহমান রনি, তানিয়া আক্তার স্বর্ণা, আলামিন (জীবন), হামিদা বেগম ও ড্রাইভার খালেকের স্ত্রী লাইলি বেগমসহ আরও কয়েকজন তাকে এই অপরাধমূলক কাজে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত মো. মাসুদের সন্ধান পেলে নিকটস্থ বনানী থানা অথবা ভুক্তভোগী পরিবারের জরুরি যোগাযোগ নম্বর ০১৮৫৩-৬৩৫৫৯৬ ও ০১৪১০-০৯৬২৭৬-এ তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যোগাযোগ
ই-মেইল: shadhinsurjodoy@gmail.com
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বাধীন সূর্যোদয় | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।