এস ডব্লিউ সাগর তালুকদার
সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
সোনাই নদীপথে ছাতক-আসাম রুট চালু ও নতুন শুল্ক স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগের বিরোধিতা করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও ছবি বিকৃত করে প্রচারের অভিযোগ করেছেন সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ১ নম্বর ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুফি আলম সোহেল।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে চেয়ারম্যান বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর সিলেট কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের উদ্যোগে সোনাই নদী শুল্ক স্টেশন চালুর বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি অংশ নেন। সেখানে সীমান্ত এলাকার ব্যবসায়ীদের স্বার্থ এবং চেলা ও ইছামতী নদীর বিদ্যমান এলসি রুট যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে তিনি মতামত দেন।
তিনি বলেন, সভা শেষে সংশ্লিষ্ট কমিশনার সরেজমিন পরিদর্শন ও যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সময়ে আবারও মতবিনিময় সভা আয়োজনের কথা জানান।
চেয়ারম্যানের অভিযোগ, সভা শেষে শুল্ক স্টেশন চালুর আবেদনকারী পক্ষের কয়েকজন সদস্য তাঁর সঙ্গে উদ্ধত আচরণ করেন। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ছবি বিকৃত করে প্রচার করা হয়। তিনি এসব প্রচারণার প্রতিবাদ জানিয়ে মতপার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান।
সোনাই নদীতে শুল্ক স্টেশন স্থাপনে আপত্তির পাঁচ কারণ তুলে ধরে চেয়ারম্যান বলেন—
প্রথমত, চেলা ও ইছামতী নদীর বিদ্যমান শুল্ক স্টেশন থেকে সোনাই নদীর দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার এবং ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার। ফলে স্বল্প দূরত্বের মধ্যে একাধিক শুল্ক স্টেশন থাকায় নতুন করে আরেকটি শুল্ক স্টেশনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
দ্বিতীয়ত, তাঁর দাবি, সোনাই নদীপথে চোরাচালানের ঝুঁকি রয়েছে। নতুন রুট চালু হলে এ ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
তৃতীয়ত, নদীর সীমান্তঘেঁষা এলাকায় বিএডিসির সেচ প্রকল্পের রাবার ড্যাম রয়েছে। অবাধ নৌযান চলাচলে ওই স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।
চতুর্থত, ছাতক লাইমস্টোন ইমপোর্টার্স অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স গ্রুপসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পক্ষ সোনাই নদীতে শুল্ক স্টেশন স্থাপনের বিরোধিতা করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
পঞ্চমত, তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শুল্ক স্টেশনের পক্ষে থাকা দুটি সংগঠন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেয়নি এবং তাঁর জানামতে সংগঠন দুটির নিবন্ধনও নেই। রুট চালুর আগেই একাধিক সংগঠনকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিভাজন ও বিরোধ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান বলেন, শুল্ক স্টেশন স্থাপনের বিষয়ে তাঁর অবস্থান কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়; বরং স্থানীয় ব্যবসায়ী, নদীপথ, সীমান্ত নিরাপত্তা ও বিদ্যমান এলসি রুটের স্বার্থ বিবেচনা করেই তিনি মতামত দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে কোনো পক্ষের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।
যোগাযোগ
ই-মেইল: shadhinsurjodoy@gmail.com
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | স্বাধীন সূর্যোদয় | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।