
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
ছড়া ও গীতিকবিতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে “নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী স্বর্ণপদক ২০২৬”-এ ভূষিত হয়েছেন কবি ও কলামিস্ট এম. আব্দুল কাইয়ুম (পিএইচডি সম্মানসূচক)। ‘বাঙালি সংস্কৃতি কেন্দ্র’-এর উদ্যোগে সম্প্রতি তাকে এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
শুক্রবার বিকেলে বাংলা একাডেমির কবি আল মাহমুদ কর্নারে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। কবি গোলাম কাদেরের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক রহীম শাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন অনুবাদক ও গবেষক মাহবুবুল হক এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাঙালি সংস্কৃতি কেন্দ্রের সভাপতি আরিফ নজরুল।
ইতিহাসের অনন্য প্রতীক নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানীর জীবন ও সাহিত্য নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আলোচনা সভার পাশাপাশি ছিল কবিতা পাঠ, আবৃত্তি ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
সম্মাননা প্রাপ্তি নিয়ে অনুভূতি জানাতে গিয়ে বক্তারা বলেন, একজন সৃজনশীল কবি ও গীতিকার হিসেবে এম. আব্দুল কাইয়ুমের এই প্রাপ্তি তার সাহিত্যচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
উল্লেখ্য, কবি আব্দুল কাইয়ুমের এ পর্যন্ত ৮টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তার উল্লেখযোগ্য সৃষ্টিগুলোর মধ্যে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ প্রণয় বিপ্লবের মধ্যরাত, আসমানীর সূর্য ও যৌথ কাব্যগ্রন্থ কাব্যাঞ্জলি। এছাড়া শিশুসাহিত্য ও ছড়ায় বাবুসোনা ময়নাপাখি ও মনিমুক্তার ছড়া, পদ্যগ্রন্থ জাগরণের পদ্য গীতিমালা, গল্পগ্রন্থ ভাঙা আয়না এবং গবেষণাধর্মী বই কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যে নারী জীবনের রূপায়ণ পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে।
তার আরও বেশ কিছু বই প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি তিনি দেশ-বিদেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাগুলোতে সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে নিয়মিত কলাম লিখে যাচ্ছেন। গুণী এই সাহিত্যিকের স্থায়ী নিবাস মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালীয়া গ্রামে।