
এম.এ নুর ইসলাম, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ে চুরি হওয়া ইজিবাইক উদ্ধার অভিযানে চোরচক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইজিবাইকের খুচরা যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঠাকুরগাঁও পুলিশ মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ সুত্রে জানাযায় , গত ৩ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১:৩০ ঘটিকায় ঠাকুরগাঁও পৌরসভার উত্তর হাজীপাড়ার মিথিলা হোটেলের সামনে ইজিবাইক রেখে খাবার খেতে ঢোকেন চালক আব্দুল কাদের । এ সুযোগে চোরচক্রের সদস্য ফেরদৌস (২৪) ও রাজা (২৪) ইজিবাইকটি চুরি করে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় চালক ও স্থানীয়রা টের পেয়ে ইজিবাইকসহ তাদের দুজন’কে হাতেনাতে ধরে ফেলে। পরে এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, একই চক্র গত ২৩ জুলাই শহরের বলাকা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে থেকে আরও একটি ইজিবাইক চুরি করে। চুরি হওয়া ইজিবাইকটি দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ থানা এলাকার বাসিন্দা ফজল (৫৫)-এর কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পুলিশ।
পরবর্তীতে ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা পুলিশ, ঠাকুরগাঁও এবং জেলা পুলিশ, দিনাজপুরের একটি যৌথ আভিযানিক দল বোচাগঞ্জ থানার রেলকলোনী পাড়ায় অভিযান চালিয়ে মোঃ ফজলকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ইজিবাইকের বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত আলামত এর মধ্যে ৮টি ইজিবাইকের মোটর , ১৫টি চার্জার, ১০টি কন্ট্রোলার, ২০টি চাবির মিটার, অটোচার্জার গাড়ির হুক ও গাড়ি খোলার সরঞ্জামসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত ফজল দীর্ঘদিন ধরে চোরাই ইজিবাইক কম দামে কিনে সেগুলোকে খুলে আলাদা আলাদা যন্ত্রাংশ হিসেবে বেশি দামে বিক্রি করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে পূর্বেও চুরি ও দস্যুতাসহ ৬টি মামলা রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোদা দাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,মামলার অন্যান্য পলাতক আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি মোটরসাইকেল বা ইজিবাইক চুরির সংক্রান্ত কোনো তথ্য জানা থাকলে নিকটস্থ থানা বা জেলা পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।