
বিশেষ প্রতিনিধি ইব্রাহিম হাওলাদার
গাজীপুরে সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে এক ভয়াবহ ডিজিটাল ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন নূর মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তি। নিজেকে বড় বড় পত্রিকার সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদক পরিচয় দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠিত সম্পাদকদেরও রেহাই দিচ্ছেন না। আইডি হ্যাক, ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁস এবং ওয়েবসাইট ধ্বংসের হুমকি দিয়ে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই ‘সিরিয়াস ব্ল্যাকমেইলার’-এর বিরুদ্ধে।
নূর মোহাম্মদের প্রতারণার জাল এতটাই বিস্তৃত যে, খোদ গণমাধ্যম জগতের শীর্ষ ব্যক্তিরাও এখন তার ভয়ে তটস্থ। দৈনিক প্রথম বুলেটিনের সম্পাদক ও পিটিভি টেলিভিশনের চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তফা কামাল তার ধারাবাহিক ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েছেন। অভিযোগে জানা গেছে, মোস্তফা কামালের আইডি হ্যাক করে এবং ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ভয় দেখিয়ে নূর মোহাম্মদ ইতোমধ্যে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। টাকা দেওয়ার পরও থামেনি এই হয়রানি ; উল্টো আরও বড় অঙ্কের টাকা দাবি করে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের ও মানহানির হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী মোস্তফা কামাল নিরুপায় হয়ে শ্রীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন, কিন্তু নূর মোহাম্মদের আস্ফালন দিন দিন বেড়েই চলেছে
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে গা শিউরে ওঠার মতো তথ্য। নূর মোহাম্মদ নিজেকে দৈনিক ‘আমার বার্তার গাজীপুর প্রতিনিধি ও ‘দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ’-এর নির্বাহী সম্পাদক এবং বিডি পোস্ট টুডের সম্পাদক দাবি করলেও পর্দার আড়ালে তিনি একজন দক্ষ সাইবার অপরাধী। মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন, এরপর কৌশলে তাদের ব্যক্তিগত ভিডিও বা ছবি হাতিয়ে নেন। টাকা না দিলেই শুরু হয় সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার নারকীয় উৎসব।
প্রথম বুলেটিন ও পিটিভি টেলিভিশনের নিউজ এডিটর নূর মোহাম্মদ জয় জানিয়েছেন এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। তাকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং দাবি করা টাকা না পাওয়ায় ওয়েবসাইট নষ্ট করে দেওয়ার মতো ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে এই প্রতারক।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নূর মোহাম্মদের ব্ল্যাকমেইল তালিকায় রয়েছেন সমাজের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান
নূর মোহাম্মদ কেবল একজন ব্যক্তি নয়, সে একটি ডিজিটাল আতঙ্ক। কারো ওয়েবসাইট মুহূর্তেই ক্রাশ করে দেওয়া কিংবা ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা তার নেশা। আমরা মান-সম্মানের ভয়ে মুখ খুলতে পারছি না।”
সাংবাদিক পরিচয়ে নূর মোহাম্মদের এই দুর্ধর্ষ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড গাজীপুরের সংবাদমহলকে লজ্জিত করেছে। সাধারণ মানুষ এখন প্রশ্ন তুলছেন—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে একজন ব্যক্তি দিনের পর দিন এমন ডিজিটাল সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে? ভুক্তভোগীরা দ্রুত তাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়ার এবং তার সকল হ্যাকিং ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন।