
মোঃ রায়হান মিয়া কচুয়া চাঁদপুর প্রতিনিধি
চাঁদপুরের কচুয়ায় পুর্ব শত্রুতার জেরে শাকির (৪২) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার দোয়াটি গ্রামের বড় ব্রিজের দক্ষিণ পাশে বিকাশ চন্দ্র সরকারের মাছের প্রজেক্টে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রোজিনা বাদী হয়ে এজাহার নামীয় ১০জনসহ অজ্ঞাতনামা ১২/১৪জনকে আসামী করে কচুয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার ১ ও ২নং আসামী বিকাশ চন্দ্র সরকার ও সোহরাব মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহত শাকির স্থানীয় পালাখাল ইউনয়ন যুবদলের কর্মী ছিল।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানাযায়, নিহত সাকির তার গ্রাম দোয়াটি হাজি বাড়ির দক্ষিন পার্শ্বে প্রজেক্টে মাছ চাষ করত। মাছ চাষাবাদ করতে গিয়ে দোয়াটি গ্রামের কামার বাড়ির বিকাশ চন্দ্র সরকারসহ এজাহার নামীয় আসামীসহ অন্যান্য মাছ চাষীদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
ঘটনার দিন শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারী) পানি সেচের মোটর বিষয়ে কথা আছে বলে রাত পৌণে ৯টার দিকে দোয়াটি বড় ব্রিজের দক্ষিন পার্শ্বে বিকাশ এর মুরগীর প্রজেক্টের পশ্চিম পাড়ে মাছ পাহারা ঘরে সাকিরকে ডেকে নেয় বিকাশ ও তার কর্মচারী সোহরাব। সেখানে সাকিরকে দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারীভাবে পিটিয়ে তাঁর মাথায়, দুই হাতে, দুই পা, চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে মুমুর্ষ অবস্থায় ফেলে চলে যায়। পরে খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
নিহত শাকিরের মেয়ে তামান্না আক্তার জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে বিএনপির একটি প্রোগ্রামের কথা বলে ঘর থেকে বের হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফোনের মাধ্যমে জানতে পারে বিকাশ চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে ২০/২৫জন তাকে বেদম মারধর করে ফেলে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে কচুয়া হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়। তাকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা জানান।
কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রোজিনা বাদী হয়ে শনিবার বিকেলে কচুয়া থানায় লিখিত অভেযোগ করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে চাঁদপুর মর্গে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের লোকজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদের গ্রেফতারে কাজ চলছে।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার রবিউল হাসান বলেন, কচুয়ার হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। যারা অপরাধী তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।