
মো নাইমুল হক স্মরণ,দুর্গাপুর উপজেলা প্রতিনিধি।
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে গারো ব্যাপটিস্ট কনভেনশনের (জিবিসি) আয়োজনে শুরু হয়েছে ১৩৫তম বার্ষিক সম্মেলন। বিরিশিরি সংলগ্ন জিবিসি প্রাঙ্গণে পাঁচ দিনব্যাপী এই মহাসম্মেলন চলবে।
গারো সম্প্রদায়ের খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের এই বৃহৎ মিলনমেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার প্রতিনিধি ও ভক্তবৃন্দ অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য হলো ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা, আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণ এবং গারো কৃষ্টি-সংস্কৃতির লালন।
উদ্বোধন: প্রদীপ প্রজ্বলন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
অংশগ্রহণ: নেত্রকোনা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী শেরপুর, জামালপুর, ময়মনসিংহ এবং সুনামগঞ্জ এলাকা থেকে কয়েক হাজার গারো পরিবার এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।
ধর্মীয় আচার: প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় বিশেষ প্রার্থনা, বাইবেল পাঠ এবং খ্রিস্টীয় সংগীত পরিবেশিত হচ্ছে। দেশি-বিদেশি ধর্মতত্ত্ববিদ ও বক্তারা সম্মেলনে আধ্যাত্মিক আলোচনা পেশ করছেন।
ধর্মীয় গাম্ভীর্যের পাশাপাশি সম্মেলনটি গারো সংস্কৃতির এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। সম্মেলন চত্বরে বসেছে বিশাল মেলা, যেখানে গারোদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, খাবার এবং হস্তশিল্পের পসরা সাজানো হয়েছে।
পাঁচ দিনের এই বিশালাকার আয়োজন ঘিরে দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশ বিভাগ কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সিসিটিভি ক্যামেরা ও সেচ্ছাসেবক বাহিনীর মাধ্যমে পুরো প্রাঙ্গণ তদারকি করা হচ্ছে।
“এই সমেম্মলন কেবল একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়, এটি আমাদের বংশপরম্পরায় চলে আসা ভ্রাতৃত্ব ও সংহতির প্রতীক।” একজন আয়োজক প্রতিনিধি।
আগামীকাল থেকে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি সমাপনী প্রার্থনা ও বিশেষ ভোজের মাধ্যমে এই সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটবে।