
আরিফুল হক জিসান, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় গ্রেপ্তারকৃত এক আসামির মৃত্যুর মিথ্যা গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় অতর্কিত হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনা ঘটেছে। এই বর্বরোচিত ও সহিংস ঘটনায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ জনকে আসামি করে আগৈলঝাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক। মামলার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক চিরুনি অভিযান চালিয়ে গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে নারী-পুরুষসহ মোট ১৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মিথ্যা গুজব ও থানায় হামলার নেপথ্য ঘটনা:
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় নিয়মিত আইনি অভিযানের অংশ হিসেবে চুরি ও মাদকসহ একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি রিয়াজ ফকিরকে একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পুলিশ জানায়, থানার হাজতখানায় বন্দি থাকা অবস্থায় আসামি রিয়াজ ফকির নিজ ইচ্ছায় নিজের মাথায় সজোরে আঘাত করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিষয়টি টের পেয়ে রাত ১১টার দিকে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গভীর রাতে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, “পুলিশের মারধরে হাজতে রিয়াজ ফকির মারা গেছেন”— এমন একটি পরিকল্পিত ও উসকানিমূলক মিথ্যা গুজব রাতেই পুরো এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এই গুজবের ওপর ভিত্তি করে উত্তেজিত ও ক্ষুব্ধ কয়েকশ মানুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গভীর রাতে আচমকা আগৈলঝাড়া থানায় চড়াও হয়। তারা থানার ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং বাধা দিতে গেলে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন পুলিশকে পিটিয়ে রক্তাক্ত ও আহত করে।
পুলিশ প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা ও বর্তমান পরিস্থিতি:
থানায় হামলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির খবর পেয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, “হামলার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর থেকেই যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে থানা ও এর আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
ওসি আরও বলেন, “তথ্য-প্রযুক্তি এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলায় সরাসরি জড়িত ১৮ জনকে শনাক্ত করে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা, থানায় হামলা ও আইনশৃঙ্খলা বিনষ্টকারী কোনো অপরাধীকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনার সাথে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” গ্রেপ্তারকৃত ১৮ আসামিকে আজ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।