
মোঃ সোলায়মান গনি উলিপুর উপজেলা প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ মোঃ আব্দুল ওয়াহিদের অসৌজন্যমূলক আচরণ, দায়িত্বে অবহেলা, নিয়মিত অফিসে না আসা সহ বিভিন্ন অভিযোগে স্থানীয় সাংবাদিক মহল এবং সচেতন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে স্থানীয় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম-সংক্রান্ত বিষয়ে মন্তব্য নিতে গেলে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদেরকে বিভিন্নভাবে অপমানজনক কথা বলেন এবং হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, এর আগেও একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তিনি নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থাকা, সাংবাদিকদের ফোন রিসিভ না করা, মন্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং অসৌজন্যমূলক আচরণের জন্য বহুবার আলোচনায় আসেন।
এছাড়া এর আগে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগের একটি কপি স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছেও পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।
তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বেও বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালের মে মাসে নীলফামারীর সৈয়দপুরের খালিশা বেলপুকুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিয়োগ বাণিজ্য পরিচালনায় সহায়তা করার অভিযোগ ওঠে। ওই সময় প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ সৈয়দ আমিরুল ইসলাম ও সভাপতি এরশাদ আলী লেবুর সঙ্গে যোগসাজশে নিয়োগ পরীক্ষার কার্যক্রমে ডিজি প্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে নিয়মবহির্ভূতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ মোঃ আব্দুল ওয়াহিদ। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের তোপের মুখে ফলাফল ঘোষণা করতে বাধ্য হন তিনি ও ডিজি প্রতিনিধি গোলাম আহমেদ ফারুক।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক বলেন, “আমরা পেশাগত দায়িত্ব থেকে তথ্য নিতে গিয়েছিলাম। আচমকা তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে অপমানজনক ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন। তার আচরণে আমি হতবাক হয়ে যাই এভাবে একজন সরকারি কর্মকর্তা আচরণ করতে পারেন, তা কল্পনাও করিনি।
অভিযুক্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ মোঃ আব্দুল ওয়াহিদ এর সঙ্গে মুটোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নয়ন কুমার সাহা বলেন, এ ধরনের ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক। বিষয়টি ইতিমধ্যে নজরে এসেছে, বিস্তারিত খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, সরকারি কর্মকর্তার ব্যবহার খারাপ করার কোন সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানানো হবে।
সচেতন মহল মনে করেন, একজন সরকারি শিক্ষা কর্মকর্তার এমন আচরণ শুধু প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে না, বরং শিক্ষা বিভাগের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকেও নষ্ট করছে।
এ ঘটনায় উলিপুরের সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।