
নেছারাবাদ উপজেলা প্রতিনিধি
মোঃরিয়াজুল ইসলাম
নেছারাবাদের এক পান ব্যবসায়ীকে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাঁদা দাবির অভিযোগে দুইজনের নামে মামলা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখিত আসামিরা হলেন উপজেলার সোহাগদল ইউনিয়নের বরছাকাঠি গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে নুরুল আলম (৪৬) এবং আজাহার আলী বেপারীর ছেলে মোঃ আল আমিন বেপারী (৫০)
নেছারাবাদ থানা পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা শেষে গ্রেফতারকৃত আসামি নুরুল আলম কে পিরোজপুর কোর্টে পাঠিয়েছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী সবুজ চন্দ্র হালদার একজন পান ব্যবসায়ী। গত ১২ জানুয়ারি সকালে পান ক্রয়ের উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলযোগে বাটনাতলার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে জনৈক জাকির হোসেনের বাড়ির সামনে পৌঁছালে আসামীরা তাঁর গতিরোধ করে মোটরসাইকেল থামাতে বাধ্য করে। এ সময় অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিরা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীকে মাদক ব্যবসায়ী বলে অপবাদ দেয় এবং মোটরসাইকেলের সাইড কভারে হাত দিয়ে একটি পলিথিনে মোড়ানো প্যাকেটে ইয়াবা বের করে ভয় দেখায়। পরে তাঁকে জোরপূর্বক জাকির হোসেনের বাড়ির সামনে নিয়ে গিয়ে আটক রাখে এবং তাঁকে বিভিন্ন মেয়াদের জেলের ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীর মোটরসাইকেল নিয়ে যায় এবং টাকা পরিশোধ করলে মোটরসাইকেল ফেরত দেওয়ার শর্ত দেয়। টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে ৯৯৯-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে নেছারাবাদ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে এবং আসামীর কাছ থেকে তাঁর মোটরসাইকেল জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে।
মামলার বাদী সবুজ চন্দ্র হালদার জানান,
পান কেনার জন্য বাসা থেকে রওনা দিলে পথিমধ্যে আমার মোটরসাইকেল থামিয়ে আমাকে মাদক ব্যবসায়ী বলে এবং তারা ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে আমাকে মামলার ভয় দেখিয়ে আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে সুযোগ বুঝে ৯৯৯ নাম্বারে নাইনে ফোন দেই। থানা পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মেহেদী হাসান ভোরের ডাক প্রতিনিধিকে জানান, পান ব্যবসায়ীকে মারধর ও তাকে জোরপূর্বক আটকে রেখে চাঁদা দাবি অভিযোগে মামলা হয়েছে। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে পলাতক ওপর আসামিকে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে। আসামিরা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী তাদের বিরুদ্ধে নেছারাবাদ থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।