
নাজমুল হোসেন সীতাকুণ্ড উপজেলা (প্রতিনিধি)
হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলাধীন বাড়বকুন্ড ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সালাউদ্দিনের (৪৬) মরদেহ আজ মঙ্গলবার উদ্ধার করা হয়েছে। ডাকাতদের হামলা ও অপহরণের তিন দিন পর মান্দারিটোলা সমুদ্র সৈকতে তাঁর মরদেহ ভেসে ওঠে। একজন রাজনৈতিক সংগঠক ও নির্ভীক সমাজকর্মীর এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোকের ছায়া ও তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
গত ৩০ জানুয়ারি, শুক্রবার সকালে মো. সালাউদ্দিন বাড়বকুন্ডের বেরী বাঁধ এলাকায় ড্রেজার পাহারার দায়িত্ব পালন করতে যান। পরদিন ৩১ জানুয়ারি, শনিবার দুপুর ১২:৩০ মিনিটের দিকে তিনি পরিবারের সাথে ফোনে শেষ কথা বলেন। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, একদল ডাকাত পাশের ড্রেজার থেকে তেল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে এবং তিনি ও তাঁর সহযোগীরা ডাকাতদের রুখতে পিছু নিচ্ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ডাকাতদের বাধা দিতে গেলে মান্দারিটোলা এলাকার চিহ্নিত ডাকাত রিফাত (২৫) ও তার সশস্ত্র সহযোগীরা সালাউদ্দিন ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় ড্রেজার মালিকের ভাই কাজল গুরুতর আহত হলেও সালাউদ্দিনকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর আজ স্থানীয় জেলেদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ও স্বজনরা তাঁর মরদেহ শনাক্ত করেন।
ইতিমধ্যেই ঘটনার মূল হোতা রিফাতকে গ্রেপ্তার করেছে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ। সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রাথমিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও এখন একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
নিহতের পুত্র মুসলিম উদ্দিন এবং স্থানীয় এলাকাবাসী এই নক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁরা অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত রিফাতসহ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত পলাতক সকল আসামিকে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সালাউদ্দিনের মতো একজন সাহসী মানুষের এই বলিদান বৃথা যেতে পারে না।