
জীবননগর, অফিস
জামায়াতপন্থী নূর আলম, আওয়ামী লীগপন্থী মিথুন মাহমুদ, হুমায়ুন কবীর, মহিবুল ইসলাম মুকুল,রায়হানসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর প্রেসক্লাব দখলের চেষ্টা চালিয়েছেন।
এ সময় প্রতিবাদ করায় জীবননগর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও যুগান্তরের প্রতিনিধি ফয়সাল মাহতাব মানিক, সাধারণ সম্পাদক এনটিভি ও আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি মো. রিপন হোসেন, আরটিভি ও জনকণ্ঠের প্রতিনিধি ওমর ফারুক, দৈনিক নবচিত্রের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম কাজলসহ সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
এসময় তাদের রক্ষা করতে গেলে ব্যবসায়ী সুমন বিশ্বাস, মনির হোসেনসহ কয়েকজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে জীবননগর থানা-পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় জীবননগর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
এদিকে এই হামলার ঘটনায় গতকাল শুক্রবার বিকেলে জীবননগর প্রেসক্লাবে জরুরি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জীবননগর প্রেসক্লাব দখল চেষ্টার প্রতিবাদ এবং গত বৃহস্পতিবার মহেশপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
একটি সূত্র জানায়, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী বিজয়ী হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা পরিষদের মধ্যে নূর আলম ও মিথুন মাহমুদের নেতৃত্বে ৮-১০ জন জামায়াত ও আওয়ামী লীগপন্থী সাংবাদিক জীবননগর প্রেসক্লাব দখলের পরিকল্পনা করেন। এরই অংশ হিসেবে বেলা ১১টার দিকে রিপনকে ফোন করা হয়। পরে রিপন চাবি দিতে না চাওয়ায় তাকেসহ সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে হামলা করা হয়।
এ বিষয়ে জীবননগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. রিপন হোসেন বলেন, আমি বৃহস্পতিবার ভোট ডিউটি হিসেবে সারারাত সময়ের সমীকরণ অফিসে ছিলাম। সকালে বাড়ি ফিরে জীবননগর কাজী টাওয়ারের সামনে একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে অবস্থানকালীন নূর আলম ফোন করে প্রেসক্লাবের চাবি চান। পরে আমি প্রেসক্লাবে গেলে প্রথমে তিনি পরে পর্যায়ক্রমে মিথুনসহ আরও কয়েকজন হামলা করেন। এ সময় আমাকে রক্ষা করতে গেলে আরও কয়েকজনের ওপর হামলা করা হয়।
জীবননগর প্রেসক্লাবের সভাপতি ফয়সাল মাহতাব মানিক বলেন, নূর আলমের নেতৃত্ব কয়েকজন প্রেসক্লাব দখল করতে এসেছে খবর পেয়ে আমি প্রেসক্লাবের দোকানের সামনে আসি। এসময় নূর আলমের নেতৃত্ব ৫ থেকে ৭ জন আমার ওপর হামলা করেন।
সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম কাজল বলেন, প্রেসক্লাব দখলের খবর পেয়ে আমি এসে দেখি নূর আলম মারমুখি আচারণ করছে। এসময় হঠাৎ করে মিথুন, রায়হানসহ আরও কয়েকজন আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা শুরু করেন।