
মোঃ আব্দুস সালাম, জেলা প্রতিনিধিঃ
বিশ্বে বর্তমানে প্রায় সাত হাজারের বেশি ভাষা প্রচলিত। বহুল ব্যবহৃত ভাষার আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জরিপে সিলেটি ভাষার অবস্থান ৯৭তম—এ তথ্য তুলে ধরে মৌলভীবাজারে ভাষাসৈনিক বদরুজ্জামানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা মাতৃভাষা ও আঞ্চলিক ভাষা সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রোববার (১ মার্চ ২০২৬) বিকেল ২টা ৩০ মিনিটে শহরের সৈয়দ মুজতবা আলী মিলনায়তন প্রাঙ্গণে তমদ্দুন মজলিশের জেলা শাখা ও ভাষাসৈনিক বদরুজ্জামান পর্ষদের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন তমদ্দুন মজলিশের জেলা সভাপতি ও পর্ষদের উপদেষ্টা, লেখক-গবেষক সৈয়দ কামাল আহমদ বাবু। সঞ্চালনা করেন খিজির মুহাম্মদ জুলফিকার। প্রধান অতিথি ছিলেন ডা. সাদিক আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক শাহ আব্দুল ওদুদ, মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি খালেদ চৌধুরী, কালেক্টেড স্কুল এন্ড কলেজ মৌলভীবাজারের প্রিন্সিপাল রফি উদ্দিন, আল ইসলাহ এর মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিদ্দিকী, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সেফুল,হাওর রক্ষা আন্দোলন সদস্য সচিব খছরু চৌধুরী, অ্যাডভোকেট বদরুল ইসলাম, তাছনিম চৌধুরী বীথি, শিক্ষাবিদ বাবুল খান, শিক্ষাবিদ মুজিবুর রহমান, শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি খায়রুল আমীন, শিক্ষাবিদ মুর্শেদ মুন্না, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহির খান, দেওয়ান মোনাকিব চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ কামাল আহমদ বাবু বলেন, ভাষা আন্দোলন ছিল জাতিসত্তা রক্ষার সংগ্রাম। তিনি উল্লেখ করেন, সিলেটি ভাষা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচিত হলেও এর ইতিহাস, গবেষণা ও প্রামাণ্য দলিল সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নতুন প্রজন্মকে স্থানীয় ভাষা ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানাতে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।বক্তারা বলেন, ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক বাংলা ভাষা আন্দোলন-এ বদরুজ্জামান সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সে সময় তিনি Murari Chand College-এর শিক্ষার্থী ছিলেন। পাকিস্তান সরকারের উর্দুকে একক রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার প্রতিবাদে গড়ে ওঠা আন্দোলনে তিনি সংগঠক হিসেবে ভূমিকা রাখেন। তবে জীবদ্দশায় কখনও নিজেকে ভাষাসৈনিক পরিচয়ে প্রচার করেননি বা কোনো স্বীকৃতি দাবি করেননি।মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মিরপুর গ্রামের এই কৃতিসন্তান পেশায় ছিলেন কৃষিবিদ ও সরকারি কৃষি কর্মকর্তা। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘ছুটই মিয়া’ নামে পরিচিত ছিলেন। ২০২২ সালে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন।্আলোচনা শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় দোয়া এবং ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, ভাষাসৈনিকদের অবদান যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এখন সময়ের দাবি।