
আবু রায়হান, মণিরামপুর (যশোর):
গর্ভধারনী মায়ের মাথায় আঘাত করতে থাকে ছেলে,মা তবুও ছেলেকে আঘাত না করে বাঁধা দিতে থাকে। কিন্তু ছেলে আশিক তো ২২ বছর বয়সের তরতাজা যুবক। একটি দুটি নয় কোদালের ৪টি কোপে মায়ের মাথা চৌচির হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। যে মা তাকে গর্ভে ধারন করেছে সেই মা তারই ছেলের আঘাতে বর্তমানে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে হাসপাতালের বেডে।
হৃদয়বিধারক এ ঘঠনাটি ঘটেছে বুধবার (২৫শে মার্চ) যশোরের মণিরামপুর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। এ ঘঠনায় অভিযুক্ত যুবক আশিক হোসেন(২২) একজন মানষিক ভারসাম্যহীন রোগী বলে চলতি তথ্য নিশ্চিত করেছেন আহত পারুল বেগমের (৫৪) প্রতিবেশি দেবর মোঃ ইস্রাফিল ইসলাম সহ স্থানীয় কয়েকজন ব্যাক্তি।
স্থানীয় সূত্রমতে,বুধবার বেলা ১টার দিকে মণিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের মানষিক ভারসাম্যহীন(পাগল) ছেলে আশিকের পায়ে লোহার শিকল অবস্থায় গাছে বাধা ছিলো। পাগল আশিকের মল-মুত্র পরিষ্কার করতে মা পারুল বেগম(৫৪) কোদাল ব্যবহারের কোন এক ফাঁকে আশিক কোদাল নিয়ে তার মায়ের মাথায় সজোরে আঘাত করতে থাকে। এক পর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে প্রথমে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে অবস্থার বেগতিক দেখে যশোর সদর হাসপাতালে পাঠায় কর্তব্যরত চিকিৎসক। এখনো পর্যন্ত জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লাইফ সাপোর্টে ডাক্তারের গভীর পর্যবেক্ষণ আছে বলে জনা গেছে। মাথায় কোদালের চারটি আঘাত খুবই গুরুত্বর,মাথার হাড় ভেদ করে কোদালের লোহার অংশ মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকেরা।
পরিবার সূত্র বলছে, মাথার সমস্যার কারনে দীর্ঘদিন আশিক পাবনার পাগলা গারদে ছিলো। ঈদ উল ফিতরের কয়েকদিন আগে তার বাবা ফজলুর রহমান মারা গেলে আশিককে বাড়িতে আনা হয়।সে থেকেই আশিক গাছে বাঁধা ছিলো।প্রাইয় একে ওকে ধরে মারতো,ভাংচুর করতো।তারজন্য তাকে গাছে বেধে রাখা হতো। ঘঠনার সময় অসাবধান বসত ভারসাম্যহীন আশিক এ কান্ড ঘটিয়েছে।
মণিরামপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রজিউল্লাহ খান জানান, ঘঠনাটি হৃদয়বিদারক। কিন্তু ছেলেটি পাগল শনাক্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এখনো কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।