
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার চিৎলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান সরোয়ারকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। হাইকোর্টের রায়ের পর পুনর্বহাল হয়ে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা, বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদে পথসভা ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার পর আদালতের নির্দেশে চেয়ারম্যান হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হলে বিপক্ষ পক্ষের নেতাকর্মীরা এর বিরোধিতা করে ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় জড়ো হন। তারা চেয়ারম্যানকে পুনরায় আসনে বসতে না দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেন এবং বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। মানববন্ধনে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাজিব ফেরদৌস পাপন, সাধারণ সম্পাদক মহাসিন আলী, ইউনিয়ন জামায়াতের আমির নিজাম উদ্দিনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া ইউপি সদস্য মোঃ আইনাল হক, বেল্টু বিশ্বাস, আনোয়ার হোসেন, ইদ্রিস আলী, আলমগীর হোসেন, শরিফ উদ্দিন, রকিব উদ্দিন, সেলিনা খাতুন, রেহেনা খাতুন ও ফিরোজা খাতুনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে বিএনপি নেতা রাজিব ফেরদৌস পাপন অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান সরোয়ার অতীতে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং সাধারণ মানুষের ওপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন, আমরা সাধারণ জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য এখানে দাঁড়িয়েছি। আমরা চাই না আবারও এমন পরিস্থিতি ফিরে আসুক। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি—এ বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। অন্যদিকে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির নিজাম উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় প্রশাসনিকভাবে ইউনিয়নের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যান পূর্বে একক সিদ্ধান্তে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় রাখতেন না। তাই পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করলে একই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই না ব্যক্তিকেন্দ্রিকভাবে ইউনিয়ন পরিচালিত হোক। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত যেভাবে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় কার্যক্রম চলছিল, সেটিই অব্যাহত থাকুক।”মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের দাবি জানান। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এ বিষয়টি সঠিকভাবে সমাধান না হলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।এ বিষয়ে চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান সরোয়ার বা তার সমর্থকদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে এলাকায় অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে।