
কংস নদে অবৈধ বালু উত্তোলন: ভাঙছে কৃষিজমি, পরিবেশ বিপর্যয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষো
মো নাইমুল হক স্মরণ (দুর্গাপুর উপজেলা প্রতিনিধি) নেত্রকোনা:
নেত্রকোণায় দুর্গাপুর উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের ঝাঞ্জাইল বাজারের অদূরের এলাকায় কংস নদ থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। ইউসুফ খান নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ । তার বিরুদ্ধে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এঁর আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে ।
স্থানীয়দের দাবি, নির্বিচারে বালু উত্তোলনের এহেনো কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে এবং তীব্র ভাঙনে নদীতীরবর্তী কৃষিজমি ধসে পড়ছে আর সাথে পরিবেশ বিপর্যয় – তো হচ্ছেই। ফলে ফসলি জমি হারিয়ে জীবিকা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষক। এমন কর্মকাণ্ডের কারণে রাস্তায় পাওয়া কাশেম জব্বার ইলিয়াস লুৎফুর জামান ফকিরসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী জানায়, বছরের পর বছর চাষ করা জমি চোখের সামনেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশও। যদিও
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলেও এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি বলে অভিযোগ তাদের । স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হলেও অজানা কারণে নেওয়া হয়নি কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা। ফলে প্রশাসনের উপস্থিতির পরও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকায় সন্দেহের চোখে দেখছে মানুষ ।এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ইউসুফ খানের কাছে জানতে চাইলে সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হন , নদী থেকে নয়, বরং নিজের জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এ কাজে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছেন এবং প্রশাসনের সঙ্গে কথাবার্তা বলেই কাজ করা হচ্ছে। যদিও অনুমতির বিষয়ে কোনো লিখিত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি;। অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, গত ১৬ এপ্রিল সরেজমিনে গিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে কারও সঙ্গে কোনো সমঝোতা হয়নি বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। একইভাবে ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। নির্দেশ অমান্য করায় বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্য দিন দুপুরে দৃষ্টির সামনে এবং অন্যায় – অবৈধ কাজ এভাবে চলতে না পারে বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনকে বারংবার অবহিত করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। ব্যবস্থার নামে নাটক করা হচ্ছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—প্রশাসন কি কার্যকারিতা হারাচ্ছে ? নাকি পতিত সরকারের আমলে যেভাবে অন্যায় অবৈধ কাজকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দেওয়া হতো, এখনও একইভাবে প্রভাবশালীদের কাছে নতি স্বীকার করছে?
স্থানীয়দের জোর দাবি, অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে ফসলি ভূমি ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলীন হওয়া প্রতিরোধ করে পরিবেশ রক্ষায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের ।