
আরিফুল হক জিসান, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার ও জনগুরুত্বপূর্ণ কালুরঘাট সেতুর দ্রুত সংস্কার এবং নতুন সেতুর কাজ অবিলম্বে শুরু করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ জনগণ। বর্তমানে এই জরাজীর্ণ সেতুর কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে চলমান বর্ষা মৌসুমে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত শুরু হলেই এই ভোগান্তি রূপ নেয় অবর্ণনীয় যাতায়াত যন্ত্রণায়।
বৃষ্টিতে বাড়ে দুর্ভোগ, নেই আশ্রয় নেওয়ার জায়গা:
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও নিয়মিত যাতায়াতকারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কালুরঘাট সেতু দিয়ে পারাপারের সময় হঠাৎ বৃষ্টি নামলে সাধারণ পথচারী কিংবা মোটরসাইকেল আরোহীদের কোথাও একটু মাথা গোঁজার বা দাঁড়ানোর মতো ন্যূনতম কোনো ব্যবস্থা নেই। পুরো সেতু এলাকায় কোনো ছাউনি বা আশ্রয় নেওয়ার জায়গা না থাকায়, বৃষ্টিতে ভিজেই শিশু ও নারীসহ শত শত মানুষকে পার হতে হয়। এতে একদিকে যেমন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে বৃষ্টি ও কাদার কারণে সেতুর ওপর প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে।
যানবাহনের দীর্ঘ জট ও সময়ের অপচয়:
একমুখী (ওয়ান-ওয়ে) চলাচলের এই সেতুটিতে প্রতিদিন বোয়ালখালী, পটিয়ার একাংশ এবং রাঙ্গুনিয়া রুটের হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। সংস্কারের ধীরগতি এবং জোড়াতালির কারণে সেতুর দুই পাশে সবসময়ই কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজট লেগে থাকে। এর ওপর বৃষ্টি নামলে গাড়ির গতি আরও কমে যায়, ফলে মাত্র কয়েক মিনিটের পথ পার হতে সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে রোগী পরিবহন ও জরুরি কর্মজীবী মানুষের যাতায়াত।
সরকারের কাছে জনগণের আকুল আবেদন:
উন্নয়নের এই ধারাকে বেগবান করতে এবং লাখো মানুষের প্রতিদিনের এই দুর্ভোগ লাঘবে বর্তমান সরকারের কাছে জোর আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ জনসাধারণ। বোয়ালখালী ও চট্টগ্রাম শহরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি— কালুরঘাট নতুন বহুমুখী সেতু নির্মাণের কাজ যাতে কোনো প্রকার আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ছাড়াই দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু করা হয়।
জনগণের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনতিবিলম্বে মাঠপর্যায়ের এই ভোগান্তি আমলে নিয়ে কালুরঘাট সেতুর টেকসই সংস্কার ও নতুন মেগা প্রকল্পটির কাজ দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।