
কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌরসভাধীন ৬নং ওয়ার্ডের তেলিচাড়া গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মোঃ রাজু মিয়া (৪৬) নামের এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে জখম করা হয়েছে। আহত রাজু মিয়া তেলিচাড়া গ্রামের মোঃ হাফিজ উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে মোঃ রাজু মিয়ার সাথে তার আপন ভাই মোঃ মামুন মিয়া (৩৭)-এর বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে মামুন মিয়া রাজুকে হত্যার উদ্দেশ্যে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওতপেতে থাকে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো দা ও লাঠি দিয়ে রাজু মিয়ার মাথায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম করে।
গুরুতর অবস্থায় প্রথমে রাজু মিয়াকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহত সেনা সদস্যের মাথার সামনে ও পেছনে নয়টি সেলাই লেগেছে এবং তার অবস্থা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত। প্রথম অবস্থায় তার শাররীক অবস্থা শঙ্কাজনক হওয়ায়
উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছিলেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলার মূল পরিকল্পনাকারী মামুন মিয়া একজন দুর্ধর্ষ প্রকৃতির লোক। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
সাম্প্রতিক তার আপন ভাইয়ের সম্পত্তি গ্রাস করতে সে নিষিদ্ধ সংগঠন কটিয়াদী উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোঃ এমদাদুল হক রাতুল (পিতা: মোঃ বাদল মিয়া, সাং: দশপাখী)-সহ একদল ভাড়াটিয়া ক্যাডারকে নিয়ে এই হামলা চালায়।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত রাতুল কিছুদিন আগেই জেল থেকে জামিনে বের হয়ে টাকার বিনিময়ে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
এই নৃশংস হামলার ঘটনায় আহত সেনা সদস্য রাজু মিয়ার স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকে আসামি করে কটিয়াদী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করছেন বলে জানা যায় । পুলিশ জানায়, আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা করা হবে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং গুরুতর আহত সেনাসদস্যের নিজ বাড়িতে তার ছোট ভাই তালাবদ্ধ করে রেখেছে। বর্তমানে বড়ো ভাই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে তার শ্বশুর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা যায়।
স্থানীয় এলাকাবাসী এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।