
তাহামিনা আক্তার | ক্রাইম রিপোর্টার |কেরানীগঞ্জ ঢাকা: |
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় কথিত মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভুক্তভোগীদের অর্থ ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার বিকেলে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বাহিরদিয়া বাজার এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বাহিরদিয়া গ্রামের বাদশা মোল্লার ছেলে এনামুল মোল্লা ইতালিতে বৈধভাবে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে এলাকার ২০ থেকে ২৫ জনের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা সংগ্রহ করেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাউকে ইতালিতে পাঠানো হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পরে তাদের লিবিয়ায় পাঠিয়ে একটি আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের কাছে জিম্মি করা হয়। সেখানে মুক্তিপণের নামে পরিবারের কাছ থেকে আরও অর্থ আদায় করা হয় এবং তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। স্বজনদের ভাষ্য, এখনও কয়েকজনের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য তারা পাননি।
মানববন্ধনে আরও অভিযোগ করা হয়, স্থানীয় ইউপি সদস্য মনজুরুল মোল্লা এই চক্রকে সহযোগিতা করেছেন। তার বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আদায় এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তোলা হয়।
ভুক্তভোগী হুসাইন সর্দার জানান, ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে তাকে লিবিয়ায় নিয়ে আটকে রাখা হয়। পরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের জন্য নির্যাতনের শিকার হন তিনি। পরিবারের সদস্যরা অতিরিক্ত অর্থ পাঠানোর পর দেশে ফিরতে সক্ষম হন।
আরেক ভুক্তভোগী ওসমান মোল্লার দাবি, তার কাছ থেকে প্রথমে ১৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে আরও ২৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের পর তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত এবং মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মনজুরুল মোল্লা তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গ্রাম্য বিরোধের জেরে একটি পক্ষ তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তার দাবি, ছোট ভাই এনামুলের ব্যক্তিগত বিষয় সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না।
এদিকে, অভিযুক্ত এনামুল মোল্লা বর্তমানে লিবিয়ায় অবস্থান করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল ফাহাদ বলেন, মানবপাচারের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে বিদেশে চাকরির প্রলোভনে প্রতারণা ও মানবপাচার রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রমও জোরদার করা হবে।