
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃএস ডব্লিউ সাগর তালুকদার
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের পেকপাড়া গ্রামে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পেকপাড়া গ্রামের মৃত আইন উদ্দিনের পুত্র তাজুল ইসলাম নিজের অনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে না পারায় একের পর এক মামলা হামলা দিয়ে প্রতিবেশি মৃত আব্দুল হামিদের পুত্র পিয়ারা মিয়া’র পরিবারকে হয়রানি করে আসছে।
এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাজুল ইসলামের প্রতিবেশি আব্দুল কাদিরের পুত্র আব্দুল করিমের জমি বিক্রি করার আগে একাধিকবার তাজুল ইসলামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে যে তিনি জমি কিনবেন কিনা। তাজুল ইসলাম জমি কিনতে আগ্রহী না হওয়ায় পিয়ারা মিয়া জমি কিনেন। কিন্তু পিয়ারা মিয়া জমি কেনার পর তাজুল ইসলাম ১৫ শতক জমি ফ্রিতে নিতে দাবি করেন। পিয়ারা মিয়া তার অসৎ স্বার্থে রাজি না হওয়ায় তাজুল ইসলাম ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে বলে জমি না দিলে আদায় করে নিবে। এর পর থেকেই একের পর এক ষড়যন্ত্র করে হামলা, নানা ভাবে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে। এতে পিয়ারা মিয়া’র পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের ১৩ জনের নামে গত বছরের ২৫ এপ্রিল দোয়ারাবাজার একটি মামলা দায়ের করেন যা তাজুল ইসলাম। যা একদম মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। পরবর্তীতে স্থানীয় সালিশে বিষয়টি মিমাংসাধীন পর্যায়ে আসলে তা উভয়পক্ষ সন্তুষ্ট হয়। কিন্তু একদিকে গ্রাম্য সালিশে সম্যতি অন্যদিকে আবারো বৃদ্ধআঙ্গুলি দেখিয়ে গত ১৭ ডিসেম্বর ৯ জনকে আসামী করে আরো একটি মামলা দায়ের করেন তাজুল ইসলাম। এরই জেরে স্থানীয় প্রশাসনকে মেনেজ করে সিলেট শহরে বসবাসকারী পিয়ারা মিয়া’র পুত্র বিল্লাল মিয়া (৩২) বাড়িতে ছুটিতে আসলে গত ১৩ ডিসেম্বর তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। যা এলাকার সামাজিক নীতি লঙ্ঘন ও এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা নষ্টের কারন।
তাজুল ইসলামকে মামলাবাজ দাবি করে এলাকাবাসী বলেন, প্রতিবেশিকে উদ্দেশ্যপ্রনোদিত ভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি বন্ধ ও মামলা প্রত্যাহার না করলে এলাকাবাসী কঠুর প্রদক্ষেপ নিবেন এবং প্রশাসন বিষয়টির সঠিক তদন্ত করে যেনো তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করেন সেই দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, পেকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো.ইছহাক মিয়া,ফুল মিয়া,পিয়ারা মিয়া,আনোয়ার হোসেন,মর্জিনা বেগম,হালিমা বেগম।
এসময় স্থানীয় মুরুব্বি মো. নুরুন্নবী, আব্দুল বারেক,দুলাল মিয়া,ইসমাইল হোসেন, হানিফ মিয়া, রিয়াজুদ্দিন, আঃ জলিল,আবু মিয়া,মন্তাজ মিয়া,কুটু মিয়া, হান্নান মিয়া,ইদ্রিস আলী,জাকির হোসেন, রফিকুল ইসলাম, হেলাল মিয়া,ফারুক মিয়াসহ শতাধিক নারী ও পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
এবিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য – আব্দুল কাদির বলেন,আমরা মিমাংসার চেষ্টা করতেছি। পক্ষদ্বয়কে বুঝাতে পারতেছিনা।
দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, বিষয়টা আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখব।