
মো নাইমুল হক স্মরণ দুর্গাপুর উপজেলা প্রতিনিধি
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার একটি সাধারণ গ্রাম গাভিনা। অথচ এই গ্রামেই নজরুলের চেতনাকে জীবন্ত করে রেখেছেন স্থানীয় নজরুল অনুরাগী ও উদ্যোক্তারা। শহর থেকে দূরে হলেও এই কেন্দ্রটি এখন স্থানীয় সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য এক তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে।
কেন্দ্রের বিশেষত্ব ও সংগ্রহ
এই নজরুল অধ্যয়ন কেন্দ্রটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো কবির দুর্লভ সব ছবির সংগ্রহ।
• চিত্রপ্রদর্শনী: এখানে কবির জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের ৪০টিরও বেশি ছবি বাঁধাই করে রাখা হয়েছে। যেখানে বিদ্রোহী কবির রণ সাজ থেকে শুরু করে তাঁর বিষণ্ণ ও অসুস্থ অবস্থার মুহূর্তগুলোও ফুটে উঠেছে।
• সাহিত্যের সংগ্রহ: নজরুলের কাব্যগ্রন্থ, উপন্যাস ও সংগীতের দুর্লভ কিছু সংস্করণ এই কেন্দ্রে সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছে।
• সাংস্কৃতিক চর্চা: শুধু সংগ্রহশালা হিসেবে নয়, এখানে নিয়মিত নজরুল সংগীতের চর্চা এবং কবির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
প্রান্তিক পর্যায়ে যেখানে আধুনিক লাইব্রেরি বা সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের অভাব রয়েছে, সেখানে গাভিনা গ্রামের এই উদ্যোগ অত্যন্ত যুগোপযোগী।
• নতুন প্রজন্মের শিক্ষা: এলাকার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের বাইরে কবির প্রকৃত অবয়ব ও জীবন সম্পর্কে সরাসরি জ্ঞান লাভ করতে পারছে।
• পর্যটন সম্ভাবনা: দুর্গাপুর এমনিতেই বিরিশিরি ও পাহাড়ের জন্য পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। এই নজরুল কেন্দ্রটি পর্যটকদের জন্য নতুন একটি গন্তব্য হতে পারে। নজরুলের অসাম্প্রদায়িক সাম্যের বাণী এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এই কেন্দ্রটি আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করছে।
সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে গাভিনা গ্রামের এই ‘নজরুল অধ্যয়ন কেন্দ্র’টি নেত্রকোনা জেলার অন্যতম একটি সাংস্কৃতিক গবেষণা কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। কবির স্মৃতি বিজড়িত ছবিগুলো আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অমূল্য সম্পদ।