
মোঃ মোবারক হোসেন,দীঘিনালা প্রতিনিধি:
পার্বত্যাঞ্চলে বনসম্পদ লুটপাট ও কাঠ পাচার রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সেনাবাহিনী ।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় পরিচালিত এক সাঁড়াশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ গোদা কাঠ জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত কাঠের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ ২৬ হাজার ৪০০ টাকা ।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয় । দীঘিনালা সেনা জোনের ক্যাপ্টেন মো. হাসনাইন আলভী বেতছড়ি সাব জোন কমান্ডারের সার্বিক নির্দেশনায় ও বেতছড়ি সাব ক্যাম্প কমান্ডার সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে অভিযানটি বাস্তবায়ন করা হয় ।
সেনা সূত্র জানায়, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার মারিশ্যা এলাকা থেকে অবৈধভাবে সংগ্রহ করা কাঠ খাগড়াছড়ির মেরুং ইউনিয়ন-এর হাজাছড়া এলাকা হয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হচ্ছিল। পথে বেতছড়ি আর্মি ক্যাম্পের চেকপোস্টে সন্দেহভাজন দুটি ‘চাঁদের গাড়ি’ থামিয়ে তল্লাশি চালানো হলে ১৩৫ পিস গোদা কাঠ জব্দ করা হয়। কাঠগুলোর মোট পরিমাণ ১৭৪ ঘনফুট বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
অভিযানের সময় জড়িতদের কেউ গ্রেপ্তার না হলেও সংশ্লিষ্ট পাচারচক্র শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, পার্বত্যাঞ্চলের দুর্গম সীমান্তঘেঁষা এলাকাকে ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বনসম্পদ পাচারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে পাচারচক্রের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে।
জব্দকৃত কাঠ মো. জাফর উল্লাহ, ডেপুটি রেঞ্জারসহ মেরুং রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ কাঠ পাচারের প্রবণতা কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও সমন্বিত অভিযান আরও জোরদার করা জরুরি। সেনাবাহিনীর এ অভিযান বনসম্পদ রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন ।