
চকরিয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত চকরিয়া আবাসিক মহিলা কলেজ দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ কক্সবাজারের নারী শিক্ষার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটিতে বর্তমানে প্রায় দুই হাজার ছাত্রী অধ্যয়নরত রয়েছে।
চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরি, কুতুবদিয়া, মহেশখালীর উত্তরাঞ্চল, লামা ও আলীকদম উপজেলার নারীদের উচ্চ শিক্ষার একমাত্র মহিলা কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কলেজটি এইচএসসি স্তরে এমপিওভুক্ত হলেও ডিগ্রি ও অনার্স স্তর এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। এ নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
জানা যায়, ২০১৪ সালে ডিগ্রি এবং ২০১৭ সালে বাংলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স কোর্স চালুর অনুমোদন দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এরপর থেকে নিয়মিত পাঠদান চললেও পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা না থাকায় শিক্ষক বেতন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সংকট দেখা দিয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ শিক্ষককে কলেজের সীমিত আয়ের মাধ্যমে বেতন-ভাতা প্রদান করতে হয়। ফলে উন্নয়নমূলক কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে ক্লাসরুম সংকটের কারণে সপ্তাহে দুই-তিন দিনের বেশি ডিগ্রি ও অনার্সের ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না।
এদিকে কলেজটি চকরিয়া সরকারি কলেজ, ডুলাহাজারা কলেজ ও বদরখালী কলেজের বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা, এইচএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ভেন্যু হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
সম্প্রতি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জুবাইদুল হক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশ্যে এক খোলা চিঠিতে কলেজটির ডিগ্রি ও অনার্স স্তর এমপিওভুক্তি এবং জাতীয়করণের দাবি জানান। তিনি বলেন, “এ অঞ্চলের নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে কলেজটির সরকারি স্বীকৃতি ও পূর্ণাঙ্গ সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।”
স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা মনে করছেন, কলেজটি জাতীয়করণ করা হলে উপকূলীয় এই অঞ্চলের নারীদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে এবং শিক্ষার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।