
সাইফুল ইসলাম (রায়পুর উপজেলা প্রতিনিধি)
লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার ২নং উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের বাসিন্দা মোঃ স্বপন হাওলাদারের ছেলে মোঃ আমির হোসেনকে(৩৫) পূর্ব পরিকল্পিতভাবে নির্মম কায়দায় হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১নং খোদেজা (২২)ও ২নং খোকন (৩৮)আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জন জড়িত রয়েছে বলে নিহতের পরিবার দাবি করেছে।
অভিযোগে জানা যায়, ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আমির হোসেনের ডান কাঁধ, ডান পাশের বুক এবং গলার শ্বাসনালীতে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করা হয়। হত্যার পর তাকে হিজলা থানাধীন ৪নং বড়জালিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর এলাকায় শান্তিরহাট বাজার সংলগ্ন মেঘনা নদীর শাখা নদীর পাড়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকার ভেতরে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
ইং-২০/০১/২০২৬ তারিখ বিকাল আনুমানিক ৫টা ৩৫ মিনিটে নিহতের ভাতিজা মোঃ সাইফুল ইসলাম(২৫) হাওলাদার অনলাইন নিউজের মাধ্যমে জানতে পারেন, হিজলা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি, বরিশাল একটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহটি হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোঃ আমির হোসেনকে (৩৫)মৃত ঘোষণা করেন।
পরিচয় শনাক্ত হলেও ঘটনাকালে লাশের কোনো অভিভাবক উপস্থিত না থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পরে বরিশাল আঞ্জুমান কবরস্থানে প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় আমির হোসেনের (৩৫)দাফন সম্পন্ন করা হয়, যা এলাকায় মানবিক আবেগের সৃষ্টি করেছে।
পরবর্তীতে নিহতের পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষে নিহতের বাবা মোঃ স্বপন হাওলাদার (৬৯)থানায় উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন। শোক, মানসিক বিপর্যয় ও সন্তানের লাশ নিজ চোখে না দেখার বেদনার কারণে মামলার এজাহার দায়েরে বিলম্ব হয়েছে বলে পরিবার জানায়।
এ ঘটনায় ১নং খোদেজা (২২)আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের নির্দেশে তাকে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে।
নিহতের পরিবার দ্রুত সকল আসামিকে গ্রেপ্তার ও হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এ মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ, শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।