
মোহাম্মদ মামুন উদ্দিন(অনলাইন রিপোর্টার)
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় অর্থসংকটে পড়েছে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত এক শহীদের পরিবার। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা শহীদ রিটনের শিশু কন্যার চিকিৎসা ব্যয় চালাতে না পেরে দিশেহারা পরিবারটি।
হাতিয়ার চরকিং ইউনিয়নের ২২ নম্বর গ্রামের বাসিন্দা শহীদ রিটনের একমাত্র কন্যা তানিশা বেগম কয়েকদিন আগে গুরুতর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। হাসপাতালে আনার পর প্রথমে শয্যা না পেয়ে শিশুটিকে দুই দিন বারান্দায় থাকতে হয়। চার দিন চিকিৎসাধীন থাকলেও এখনও তার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
শিশুটির মা আফসানা বেগম জানান, স্বামী রিটন ঢাকায় একটি মুদি দোকানে চাকরি করতেন। তার পাঠানো টাকাতেই সংসার চলত। জুলাই অভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়িতে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত হওয়ার পর সংসারের একমাত্র উপার্জন বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে অসুস্থ শ্বশুর ও শিশুসন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।
আফসানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সবাই আমাদের নিয়ে রাজনীতি করে, কিন্তু কেউ পাশে দাঁড়ায় না। সরকার অনেক সহায়তার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কিছুই পাইনি। খাবার কিনলে ওষুধ কেনা যায় না, আবার ওষুধ কিনলে খাবার জোটে না।
শহীদ রিটনের মামা জুয়েল জানান, টাকার অভাবে প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে পারছেন না। স্থানীয় একটি দোকান থেকে বাকিতে কিছু ওষুধ আনা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। পরিবারের আর্থিক দুরবস্থার কারণে শিশুটির সঠিক চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।
হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমান চন্দ্র আচার্য্য জানান, শিশুটি ডায়রিয়ায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আসে। তাকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে দ্রুত সুস্থতার জন্য নিয়মিত ওষুধ ও পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত শহীদ পরিবারের জন্য ঘোষিত সহায়তা দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে এ ধরনের মানবিক সংকট আরও বাড়বে। তারা অবিলম্বে শহীদ রিটনের পরিবারসহ সকল শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।