
কচুয়া প্রতিনিধিঃ
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ১নং সাচার ইউনিয়নের ২০নং সাচার মৌজায় ক্রয়কৃত সম্পত্তি ভোগদখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছে, প্রভাবশালী একটি পক্ষ তাদের বৈধভাবে ক্রয় করা জমিতে কাজ করতে বাধা দিচ্ছে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হলে আদালত প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৮ জানুয়ারি কচুয়া উপজেলার ৩নং বিতারা ইউনিয়নের খলাগাঁও গ্রামের মোঃ সাখাওয়াত হোসেন ও তার স্ত্রী মোসাঃ সামিমা নাছরীন, সাচার বাজার এলাকার বাসিন্দা মোঃ জোহর আলীর কাছ থেকে সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে ৪ শতক জমি ক্রয় করেন। যার মধ্যে ৩ শতক দোকান ভিটা ও ১ শতক বাড়ির জমি রয়েছে। জমিটির মূল্য বাবদ তারা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, একই এলাকার মোঃ আজিজুল হাকিম ওই জমির ওপর মালিকানা দাবি করে ক্রয়কৃত সম্পত্তি ভোগদখলে বাধা সৃষ্টি করছেন। তিনি দাবি করছেন, জোহর আলী ও তার স্ত্রী মরিয়মের কাছ থেকে পৃথক দলিলের মাধ্যমে তিনি জমি ক্রয় করেছেন। তবে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, আজিজুল হাকিম যে অতিরিক্ত দলিলের কথা বলছেন, তার কোনো বৈধ কাগজপত্র বা অস্তিত্ব তিনি দেখাতে পারেননি।
দলিল ও জমির হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, জোহর আলী ও তার স্ত্রী মরিয়ম তাদের মালিকানাধীন মোট ২৪ শতক জমি বিভিন্ন সময়ে একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন। এর মধ্যে আজিজুল হাকিমের কাছেও দুই দফায় সাড়ে ৪ শতক জমি বিক্রি করা হয়। পরবর্তীতে অবশিষ্ট ৪ শতক জমি সাখাওয়াত হোসেন ও তার স্ত্রীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে মোসাঃ সামিমা নাছরীন বাদী হয়ে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত কচুয়া থানার ওসিকে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন এবং কচুয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ প্রদান করেন।
ভুক্তভোগী সাখাওয়াত হোসেনের বাবা ইসমাইল সরকার বলেন, “আমরা বৈধভাবে জমি ক্রয় করেছি। কিন্তু আজিজুল ইসলাম আমাদের সম্পত্তিতে কাজ করতে বাধা দিচ্ছে। পুলিশ কাজ বন্ধ রাখতে বললেও পরে আবার কাজ শুরু করা হয়। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত আজিজুল হাকিম বলেন, “মরিয়ম যেভাবে জমির মালিক হয়ে বিক্রি করেছেন, সেভাবেই আমি জমি ক্রয় করেছি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হচ্ছে। আমি আমার বৈধ সম্পত্তিতেই কাজ করছি।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন।