
মাহফুজ রহমান,স্টাফ রিপোর্টার:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল দাবি করেছেন, এক অসুস্থ সহযোদ্ধার স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে গিয়ে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতা, অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন।
সম্প্রতি এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ও ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
হিমেলের বক্তব্য অনুযায়ী, জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক অহিদুর রহমান নিক্সনের স্ত্রী গুরুতর শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হলে তাকে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওয়ার্ডে ভর্তির ব্যবস্থা না হওয়ায় রোগীর স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
ঘটনার খবর পেয়ে গভীর রাতে হাসপাতালে গিয়ে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন বলে জানান হিমেল। এ সময় হাসপাতালের কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
তার দাবি, হাসপাতাল পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য চাইলে তা সরবরাহ করা হয়নি। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
হিমেলের অভিযোগ, পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করা হলেও একটি পক্ষ ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়ে তিনি বলেন, সেখানে কোনো হামলা, ভাঙচুর বা বিশৃঙ্খলার দৃশ্য নেই। বরং অসুস্থ রোগীকে ঘিরে স্বজনদের উদ্বেগ ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে। ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে জনমনে ভুল ধারণা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধার পরিবারের সংকটময় সময়ে পাশে দাঁড়ানোকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকার কারণে সমালোচনার মুখে পড়লেও তিনি এ দায়িত্ব পালন থেকে সরে আসবেন না।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।