
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
এস ডব্লিউ সাগর তালুকদার
প্রায় দুই দশক পর আবারো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে দলটি।
এরই ধারাবাহিকতায় আবারো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে দলটি। সিলেট বিভাগের চার জেলায় ১৯ আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয় পেয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থীরা। একটি আসনে জয় পেয়েছেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে থাকা খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি মাওলানা আবুল হাসান। প্রথমবার বিভাগটিতে বড় জয় পেয়েছে দলটি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান নিজেকে চেয়ারম্যান করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করেন। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে দলটি। নির্বাচনে সিলেট অঞ্চলের (তৎকালীন বৃহত্তর সিলেটের চারটি জেলা মিলিয়ে) ১৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি ১৪টিতে জয়লাভ করে।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে সেনা অভ্যুত্থানে নিহত হন জিয়াউর রহমান। এরপর দলের হাল ধরেন তার সহধর্মিণী খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগদান করেন তিনি। এরপর ১৯৮৩ সালের মার্চে দলের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া। ওই নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলেও সিলেট বিভাগে একটি মাত্র আসনে জয়লাভ করে। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তিন আসনে জয় পায় দলটি। এছাড়া ২০০১ সালে পায় সাতটি আসন। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে কোনো আসনেই জয়লাভ করতে পারেননি বিএনপি প্রার্থীরা। ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে দলটি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও নির্বাচনটি ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একাই ২৫৮টি আসন পায় বলে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে। এছাড়া জাতীয় পার্টি ২২ এবং মহাজোটভুক্ত অন্য দলগুলো ৮ আসনে জয়ী হয়। অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত বিএনপি ছয়টি, গণফোরাম দুটি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তিনটি আসনে জয়ী হন। ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনও বর্জন করে বিএনপি। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করে। তবে একই বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয় দলটি। এরপর নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলের চেয়ারম্যান হন তারেক রহমান। গণ-অভ্যুত্থানের দেড় বছর পর বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তারেক রহমান নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি।
ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, সিলেট বিভাগের ১৯ আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয় পেয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থীরা। একটি আসনে জয়ী হয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মুফতি মাওলানা আবুল হাসান। এর মধ্যে সিলেট জেলার ছয় আসনের পাঁচটিতে বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। সিলেট-১ আসনে বিএনপির খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, সিলেট-২ আসনে নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা, সিলেট-৩ আসনে বিএনপির মোহাম্মদ আবদুল মালিক, সিলেট-৪ আসনে বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী এবং সিলেট-৬ আসনে বিএনপির এমরান আহমদ চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। তবে সিলেট-৫ আসনে জয়ী হয়েছেন খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি আবুল হাসান।
সুনামগঞ্জ জেলার পাঁচ আসনের সবক’টিতেই বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ-১ আসনে কামরুজ্জামান কামরুল, সুনামগঞ্জ-২ আসনে নাসির উদ্দীন চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে কয়সর আহমেদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে নুরুল ইসলাম নুরুল এবং সুনামগঞ্জ-৫ আসনে কলিম উদ্দিন মিলন জয় পেয়েছেন।
মৌলভীবাজার জেলার চারটি আসনের সবক’টিতেই বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে মৌলভীবাজার-১ আসনে নাসির উদ্দীন মিঠু, মৌলভীবাজার-২ আসনে শওকতুল ইসলাম শকু, মৌলভীবাজার-৩ আসনে এম নাসের রহমান এবং মৌলভীবাজার-৪ আসনে হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী জয়লাভ করেছেন।
এছাড়া হবিগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া, হবিগঞ্জ-২ আসনে ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, হবিগঞ্জ-৩ আসনে জি কে গৌছ এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনে এসএম ফয়সল জয় পেয়েছেন।