
এস ডব্লিউ সাগর তালুকদার
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা জাউয়াবাজার এলাকায় জমি বিক্রয়কে কেন্দ্র করে টানা কয়েকদিনের উত্তেজনার জেরে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে জাউয়া কোনাপাড়া ও খিদ্রাকাপন গ্রামের লোকজন মুখোমুখি অবস্থানে গেলে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে টর্চলাইট জ্বালিয়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহারে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জায়গা বিক্রয় সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে খিদ্রাকাপন গ্রামের আকলুছ মিয়া ও জাউয়া কোনাপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর পক্ষের লোকজনের মধ্যে কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় উভয়পক্ষ টর্চলাইট জ্বালিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিলে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে নারী-পুরুষসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে অন্তত ১৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল, ক্লিনিক ও সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন রুম্মান আহমেদ (৩০), রেজা তালুকদার (৬২), ইশতিয়াক (২৮), হোসাইন আহমদ (২২), জাবেদ তালুকদার (৩৫), আকিব (১৯), আরিফ (২৩), হাসান (২৫), আলামিন (২৩), রবি (২৭), সৌরভ (২৫), আসকন্দর (৬০), মৃদুল (৩৬), সুহেল মিয়া (৩৩), মাহির মিয়া (১৪), মহসিন (১৩), খোকন (২৬), সুমন (৩৩), সাজন রহমান (৩৬)সহ আরও অনেকে।
গুরুতর আহত হয়ে সিলেটে প্রেরিতদের মধ্যে রয়েছেন আকমল (৩৫), লোকমান (৪০), ইশতিয়াক (২৮), হুসাইন (২২), জাবেদ তালুকদার (৩৫), হাফিজ আলী (৬০), আকিব (১৯), আছকন্দর আলী (৬০), মিদুল (৩৬), আরিফ (২৫), মুহিত (২০), খোকন (২৬), সুমন (৩৩) ও মইনুল (২৭)।
সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ পুলিশ-এর জাউয়াবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কবিরের নেতৃত্বে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। পরে ছাতক থানা-র অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান তালুকদারের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে শান্তিগঞ্জ সেনাবাহিনী ক্যাম্পের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।
এদিকে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে সুনামগঞ্জ-১ আসনের বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান পায়ে আঘাত পান। পরে আহত অবস্থায় তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নতুন করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে টহল জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।