
মোঃ নাজমুল হক, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি:
পবিত্র জুম্মা ও পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আজ শুক্রবার (২৬ জুন) চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার চিৎলা ইউনিয়নের চিৎলা গ্রামে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে এক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। চিৎলা গ্রামের মোহাম্মদ কাউছার আলীর বাড়িতে জাকের পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত এ মাহফিলে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আশেকান ও জাকেরিয়ানদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পবিত্র আশুরা মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, পবিত্র ও শোকাবহ একটি দিন। ইসলামী বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখকে আশুরা হিসেবে পালন করা হয়। মুসলিম ইতিহাসে এ দিনটি ত্যাগ, সত্য, ন্যায় ও ধৈর্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে। কারবালার প্রান্তরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (রা.)-এর আত্মত্যাগ মুসলিম উম্মাহকে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার শিক্ষা দেয়।
ওয়াজ মাহফিলে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মোহাম্মদ ইমরান হোসেন। তিনি পবিত্র আশুরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, কারবালার ঘটনা কেবল একটি শোকগাথা নয়, বরং সত্য প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের ইসলামের আদর্শ অনুসরণ করে মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র জাকের মোহাম্মদ আতাব মালিতা এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মোহাম্মদ নাসির হোসেন। মাহফিলে জিকির, দরুদ শরিফ, ধর্মীয় আলোচনা এবং বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা মোহাম্মদ ইমরান হোসেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিনি থানার সভাপতি মোহাম্মদ কাউছার আলী, জেলা নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ খাইরুল জদ্দার, মোহাম্মদ মজুল হক, মোহাম্মদ নাসির হোসেন, মোহাম্মদ মিনারুল মেম্বার, মোহাম্মদ আশরাফুল মালিতা, আব্দুল খালেক, কাবিল হোসেন, মোহাম্মদ শিমুল হোসেন (আলামিন), মোহাম্মদ ঠান্ডু মালিতা, মোহাম্মদ বকুল মিয়া, মোহাম্মদ আসিক, মোহাম্মদ মজনু, হাবিবুর রহমান, সাগর হোসেনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এছাড়াও অসংখ্য আশেকান, জাকেরিয়ান ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লি মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন। ধর্মীয় আলোচনা, জিকির ও দোয়ার মধ্য দিয়ে পুরো অনুষ্ঠানস্থলে এক শান্ত, সুশৃঙ্খল ও আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত মুসল্লিরা গভীর মনোযোগ সহকারে ওয়াজ ও নসিহত শ্রবণ করেন এবং আশুরার তাৎপর্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা লাভ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি, বিশ্ব মানবতার কল্যাণ এবং সকল মৃত মুসলমানের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে মাহফিলের সফল সমাপ্তি ঘটে।
মাহফিল শেষে আয়োজকরা জানান, ইসলামের সুমহান আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধ সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত থাকবে।