
মহেশখালী, (কক্সবাজার)
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার জলেয়ারমার ঘাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের (EIIN নং ১৩৪৮৯১) ২০২৪ সালের BANBEIS রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষক এবং সচেতন মহলে এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের রেকর্ডে শিক্ষকদের যোগদানের তারিখ ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন করে ভুল তথ্য দেখানো হয়েছে।গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি উদাহরণ হলো:
অফিস সহকারী সৈয়দ নুর-এর যোগদানের তারিখ ভুলভাবে ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৬ দেখানো হয়েছে।
শিক্ষিকা রিয়াজুর জন্নাত জেকি-র যোগদানের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ প্রদর্শন করা হয়েছে, যা প্রকৃত তথ্যের সাথে মিল নেই। রিপোর্টে আরও অসংখ্য ভুল তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।
এছাড়া:লাইব্রেরিয়ান পদ অনুমোদিত না থাকা সত্ত্বেও ওমর ফারুককে লাইব্রেরিয়ান হিসেবে দেখানো হয়েছে।অথচ ওমর ফারুক নামের শিক্ষকের পি ডি এস অস্তিত্ব নেই।এবং জাহাঙ্গীর আলম পিডিএস অস্তিত্ব থাকলেও বাস্তব অস্তিত্ব নাই। বিদ্যালয়ে ব্যবসায় শিক্ষা শাখা অনুমোদন ছাড়াই জাহাঙ্গীর আলমকে শিক্ষক হিসেবে দেখানো হয়েছে।
দুই বিদ্যালয়ের মধ্যে অদ্ভুত এমপিও জালিয়াতি
সবচেয়ে বড় চাঞ্চল্যের বিষয় হলো, ঘোরকঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক বাস্তবে জলেয়ারমার ঘাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে থেকে ক্লাস নিয়েছিলেন যা ব্যানবেইস রিপোর্ট,তাদের নিয়োগ পত্র, ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি থাকা। কিন্তু তাদের এমপিওভুক্তি ঘোরকঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ে দেখানো হয়েছে।এতে শিক্ষাব্যবস্থায় মারাত্মক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের বড় প্রমাণ মিলেছে।
স্থানীয়রা মনে করছেন,
“এটি একটি সুপরিকল্পিত জালিয়াতি চক্রের কাজ এবং এর মাধ্যমে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জালিয়াতির নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে।”
এনটিআরসিএ সার্টিফিকেট ছাড়াই শিক্ষক নিয়োগ
২০০৫ সালের পর থেকে NTRCA (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো শিক্ষক নিয়োগ বৈধ নয়।
তবুও অভিযোগ রয়েছে, জলেয়ারমার ঘাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে বেশ কিছু শিক্ষক এই সার্টিফিকেট ছাড়াই চাকরি করছেন, যা সরাসরি শিক্ষা আইন লঙ্ঘন।
এটি স্পষ্ট করে যে, বিদ্যালয়ের অনিয়ম শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, বরং বৃহৎ পরিসরে সংঘটিত হচ্ছে এবং প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে যাচ্ছে।অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি অভিভাবকরা জানিয়েছেন, এই ভয়াবহ জালিয়াতি নিয়ে তারা শিগগিরই মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (UNO)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করবেন।
তাদের দাবি:
1. অবিলম্বে তদন্ত কমিটি গঠন।
2. BANBEIS রিপোর্টে থাকা ভুল তথ্য বাতিল।
3. সরকারি অর্থ আত্মসাতের সঠিক হিসাব নিরূপণ।
4. দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি এবং আইনগত ব্যবস্থা।
এই ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিভাবক ও সচেতন মহল মনে করেন,
“যদি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে এ ধরনের জালিয়াতি পুরো জেলার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেবে।”তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।