
মোঃ ইয়াছিন শেখ (কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি)
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের তিন ভাগের এক ভাগ হাওর এলাকা। এই হাওর আমাদের পেটের খাদ্যের জোগান দেয়। শুধু ভাত না, এই হাওর আমাদের প্রোটিনও সরবরাহ করে। কিন্তু আজকে নদীগুলোকে খুন করা হয়েছে। হাওরগুলো বিলগুলো ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। আমরা এগুলোতে হাত দেব। নদীর জীবন ফিরে আসলে বাংলাদেশের জীবন ফিরে আসবে। কাজেই নদী দিয়েই আমাদের উন্নয়নের সংস্কার শুরু হবে।’
কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক রমজান আলী সভাপতিত্বে।
আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমির বলেন, ‘কিশোরগঞ্জ জেলার মানুষ স্বভাবগতভাবেই ধর্মপ্রাণ। কিন্তু তাঁরা অন্যান্য ধর্মের সাথেও চমৎকার সম্পর্ক রক্ষা করে চলে। এটিই ধর্মের সৌন্দর্য। আমরা দেশটাকে সব ধর্ম দিয়ে ফুলের বাগানের মতো সাজাব। আমরা আমাদের প্রিয় জাতিকে টুকরা টুকরা করতে আর কাউকে সুযোগ দেব না। অতীতের কাসুন্দি শেষ। ওইগুলো শুনিয়ে শুনিয়ে জনগণকে ঘুম পাড়িয়ে রেখে জনগণের কপাল-কিসমত যারা হাইজ্যাক লুটপাট করেছে, তাদের জায়গা বাংলাদেশে আর হবার না। চব্বিশের যুবসমাজ অতীতের পচা রাজনীতির জন্য বুক চিতিয়ে লড়াই করে নাই। তারা পরিবর্তন চেয়েছে। ১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশে সে পরিবর্তনের সূচনা হবে ইনশা আল্লাহ।’
জামায়াতের আমির এ সময় আরও বলেন, ‘মায়েদের ঋণ পরিশোধ করা কি আমাদের পক্ষে সম্ভব? কিন্তু আমাদের ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করতে হবে। ১৫ জুলাই যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কলিজার টুকরা মেয়েদের গায়ে উচ্ছৃঙ্খল সন্ত্রাসীরা হাত দিয়েছিল, সেদিনই বাংলাদেশে আগুন জ্বলে উঠেছিল। মানুষ সবকিছু সহ্য করতে পারে, কিন্তু তার মায়ের অপমান সহ্য করতে পারে না। সমানভাবে তরুণদের সাথে তরুণীরা, যুবকের সাথে যুবতীরা, ভাইয়ের সাথে বোনেরা, বাবার সাথে মায়েরা চব্বিশে যুদ্ধ করেছে। আমরা মাদেরকে কথা দিচ্ছি, আপনাদের সমাজের সকল দিক থেকে সম্মানিত করব। অংশ হিসেবেই আমরা মাথায় তুলব। এটা আমাদের দায়িত্ব। যে জাতি মাকে সম্মান করে, আল্লাহ তাআলা তাদের সম্মান বৃদ্ধি করে দেয়। আর যে জাতি মায়ের সম্মান রাখতে পারে না, আল্লাহ তাআলা তাদের সম্মান উঠিয়ে নেয়।’
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি মানুষ শান্তিতে নিরাপদে থাকবে। কৃষক তার জমিতে ফসল ফলাবে। একজন শ্রমিক তার ন্যায্য পাওনা পাবে শ্রমের। এবং সে মানবিক মর্যাদায় সেখানে কাজ করবে। এই দেশে হাত পাতা মানুষ থাকবে না। হাত মজবুত হয়ে কাজ করার মানুষ থাকবে। এরপরে যাদের হাত কাজ করতে পারবে না, তাদের দায়িত্ব সরকার নেবে। একটা সুস্থ সবল জাতি গঠনের জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত শিশুদের সমস্ত চিকিৎসার দায়িত্ব নিবে সরকার। আমরা বলেছি একটা শিশুও আর শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে না।’
বক্তব্য শেষে কিশোরগঞ্জ-২, কিশোরগঞ্জ-৩, কিশোরগঞ্জ-৪ ও কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। এ সময় কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর হাতে রিকশা প্রতীক তুলে দেন তিনি।
কিশোরগঞ্জ-১ আসনে জোটের প্রার্থী দুজন থাকায় এই আসনে কাউকে প্রতীক দেওয়া হয়নি।