
রুহুল আমিন,ঢাকা জেলা, প্রতিনিধি
রাজধানীর ৭৫ নং ওয়ার্ডের ত্রিমোহনী এলাকায় জনগণের চলাচলের রাস্তা গিলে খাচ্ছেন স্থানীয় প্রভাবশালী বিএনপি নেতা এলিম হোসেন। এলাকাবাসী নিজেদের জমি ছেড়ে দিয়ে জনস্বার্থে রাস্তা প্রশস্ত করলেও, এলিম হোসেন নিজের মার্কেটের সামনে এসে সেই রাস্তাই সংকুচিত করে ফেলেছেন। ত্রিমোহনী গুদারাঘাট থেকে বনশ্রী লিংক রোড পর্যন্ত এই সংযোগস্থলের প্রবেশমুখ দখল করে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণ করায় হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত এখন বিষিয়ে উঠেছে।
জনস্বার্থের বিপরীতে ব্যক্তিস্বার্থের থাবা
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, এই এলাকার যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত করতে স্থানীয়রা নিজেদের জায়গা ছেড়ে দিয়ে ১০ ফিটের সরকারি রাস্তাকে ১৮ ফিট প্রশস্ত করেন। কিন্তু সড়কের প্রবেশমুখে নিজের মার্কেটের কাছে এসে এলিম হোসেন ও তার ভাইরা সেই প্রশস্ততা কেড়ে নিয়েছেন।
সাবেক নাসিরাবাদ ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মনির হোসেন এই জবরদখলের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন:
“এলাকার মানুষ উন্নয়নের স্বার্থে জমি ছেড়ে দিয়ে পুরো রাস্তা ১৮ ফিট করেছেন। অথচ এলিন ভাই নিজের মার্কেটের জায়গায় এসে রাস্তা ছোট করে ফেলেছেন। মার্কেটের সামনের একটি দোকানে রাস্তার প্রায় ৩.৫ ফুট এবং আরও কয়েকটি দোকানে প্রায় ৭ ফুটের মতো জায়গা দখল করে তিনি মার্কেট বাড়িয়েছেন। জনস্বার্থে যেখানে সবাই জমি ছাড়ল, সেখানে তিনি উল্টো রাস্তার জমি গিলে খেয়েছেন।”
অবরুদ্ধ জনজীবন: অ্যাম্বুলেন্স ঢোকার পথও নেই
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রবেশমুখ দখল হয়ে যাওয়ায় প্রশস্ত সড়কটি হঠাৎ করে সরু হয়ে গেছে। ফলে রিকশা বা জরুরি সেবার কোনো যানবাহন, বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে চরম হিমশিম খাচ্ছে। ক্ষমতার দাপটে এলিন হোসেনের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করতেও ভয় পাচ্ছেন।
স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের চলাচলের চিত্র এখন ভয়াবহ। ভুক্তভোগী এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, “পুরো রাস্তা প্রশস্ত হলেও মার্কেটের সামনের অংশে এসে পথচারীদের জটলায় আটকে থাকতে হয়। সামান্য বৃষ্টি হলে এই সরু গলি দিয়ে হাঁটাই দায় হয়ে পড়ে।”
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এলিম হোসেন স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা করছেন না। জনগণের ত্যাগের বিনিময়ে হওয়া ১৮ ফিট রাস্তাকে ক্ষমতার দাপটে কেন সংকুচিত করা হলো, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে রাস্তাটি পূর্বের প্রশস্ত অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
প্রতিবেদকের মন্তব্য: জনস্বার্থে এলাকাবাসীর দেওয়া জায়গায় নির্মিত রাস্তা কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত বাণিজ্যের বলি হতে পারে না। এই দখলদারিত্ব মুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।