
মোঃ কামরুল ইসলাম, রায়গঞ্জ সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে করতোয়া নদীর উপর একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই এখন ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে চান্দাইকোনা ইউনিয়নসহ আশপাশের প্রায় ৮ থেকে ১০টি গ্রামের মানুষের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন এই সাঁকো দিয়ে পারাপার করছেন কৃষক, শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সড়াইদহ, লক্ষিকোলা, খোকশা হাট, পাইকড়া, শ্যামনাই ও ভুইয়াগাঁতীসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে করতোয়া নদীর উপর বাঁশের এই সাঁকোটি নির্মাণ করেছেন। প্রতিদিন শত শত মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এলাকাবাসী জানান, বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটির অবস্থা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। নদীর পানির স্রোত বাড়লে সাঁকো নড়বড়ে হয়ে যায় এবং পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। ফলে তখন দুর্ঘটনার আশঙ্কা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আল আমিন বলেন, “এই বাঁশের সাঁকোই আমাদের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হয়। বিশেষ করে বাজারে পণ্য আনা-নেওয়ার সময় খুবই কষ্ট হয়। এখানে একটি স্থায়ী ব্রিজ হলে আমাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।”
আশি ঊর্ধ্ব বৃদ্ধ মো. শাহজাহান শেখ ও আবুল হোসেন বলেন, “বয়সের কারণে হাঁটাচলা কঠিন হয়ে গেছে। তবুও এই নড়বড়ে সাঁকো দিয়েই চলাচল করতে হয়। অনেক সময় পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। এত বছরেও এখানে একটি ব্রিজ না হওয়া খুবই দুঃখজনক।”
গৃহিণী মোছা. রুবিয়া বলেন, “বাচ্চাদের নিয়ে এই সাঁকো পার হওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বর্ষার সময় তো আরও ভয় লাগে। আমরা খুব কষ্টে আছি, দ্রুত একটি নিরাপদ ব্রিজ দরকার।”
স্থানীয় স্কুল শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিন স্কুলে যেতে এই সাঁকো পার হতে হয়। বৃষ্টি হলে সাঁকো খুব পিচ্ছিল হয়ে যায় এবং অনেক সময় পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। তারা দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানায়।
স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম ও মঞ্জিল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবছর জনপ্রতিনিধিরা এসে সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবে রূপ নেয় না। ফলে বছরের পর বছর ধরে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
এলাকাবাসী জানান, সাঁকোটির পাশ দিয়েই রয়েছে ঢাকা–বগুড়া মহাসড়ক এবং এর একটি বাইপাস সড়ক। এত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কাছাকাছি অবস্থান করেও স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখানে কোনো স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে Local Government Engineering Department (এলজিইডি) রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।”
এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হকের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। তাদের মতে, একটি পাকা সেতু নির্মাণ হলে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।