
মোঃ রায়হান মিয়া, কয়য়া, চাঁদপুর প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ জেলার ঐতিহ্যবাহী শৈলকুপা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কচুয়ায় মানবিক কর্মকর্তা হিসেবে সুপরিচিত মোঃ নাহিদ ইসলাম। পিতা-মাতার দ্বিতীয় সন্তান তিনি। পেশায় বাবা একজন কৃষক ও ব্যবসায়ী। জনাব নাহিদ ইসলাম স্থানীয় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে পড়াশুনা করে ঐতিহ্যবাহী ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরিচালিত শিশুকুঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পর্ব সম্পন্ন করেন। তিনি ২০০৯-২০১০ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরিক্ষায় ২৪৫ তম স্থান অর্জন করেন এবং ঐতিহ্যবাহী অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। সফলতার সাথে মাস্টার্স সম্পন্ন করে কর্মজীবন শুরু করেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে।
পরবর্তিতে ৩৮ তম বিসিএসের মাধ্যমে নন-ক্যাডার পদে সমাজসেবা অফিসার হিসেবে ২০২১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর কচুয়া উপজেলায় যোগদান করেন। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, একটি বিশেষ অবস্থার প্রেক্ষিতে যোগদানের প্রথম দিন থেকেই তাকে নানাবিধ প্রতিকূলতার সম্মুখিন হতে হয়। তিনি জানান, সকল ধরনের ভাতাভোগীর ভাতা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা, ভাতাভোগীদের লাইভ ভেরিফিকেশন, হ্যাকার সম্পর্কে সতর্কতামূলক প্রচারণা, অফিস দালালমুক্তকরণসহ সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির অন্তর্গত প্রদেও সকল সেবার সহজীকরণের জন্য প্রথম দিকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম জানান, কচুয়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় কর্তৃক বাস্তবায়িত বিভিন্ন সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি বেশ কিছু গুণগত ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন। রোগী কল্যাণ সমিতি এখন কচুয়ার সুপরিচিত একটি সংগঠন। বাংলাদেশের প্রথম উপজেলা হিসেবে সরাসরি ব্যালট পেপারের মাধ্যমে রোগী কল্যাণ সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠিত হয়েছে, যার সদস্যরা তার নেতৃত্বে নিরলসভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগত গরীব, অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত, প্রতিবন্ধী রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করছেন এবং কচুয়ায় মানবিক সমাজ গড়ার আন্দোলনে আশার সঞ্চার করেছে।
তিনি আরও জানান যে, ভৌগলিকভাবে কচুয়া উপজেলায় প্রতিবন্ধীতার হার বেশ। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষা ও তাদের প্রাপ্য সকল সেবা (সুবর্ণ নাগরিক কার্ড, প্রতিবন্ধী ভাতা, হুইল চেয়ারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী) সহজে প্রাপ্তির জন্য তিনি এবং তার সমাজসেবা অফিসের টিম নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। “প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা সংক্রান্ত কমিটি” এর মাধ্যমে নিয়মিতভাবে ও স্বছতার সাথে প্রতিবন্ধী সনাক্তকরণ হচ্ছে। প্রথমবারের মত উপজেলা বিশেষায়িত টিম প্রতিটি ইউনিয়নে গিয়ে প্রতিবন্ধী জরিপ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। এছাড়া তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রথমবারের মত প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র, চাঁদপুর এর ভ্রাম্যমাণ থেরাপি ভ্যান নিয়মিত কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিনামূল্যে থেরাপী প্রদান কার্যক্রম শুরু করেছে।
তিনি জানান, কচুয়ায় প্রথমবারের মত কচুয়া পৌরসভায় ‘উন্মুক্ত যাচাই-বাছাই’ এর মাধ্যমে বিভিন্ন ভাতা এর নতুন উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচন করা সহজ হয়েছে। তিনি আশা করেন, এক সময় ইউনিয়ন পর্যায়েও সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির সকল উপকারভোগী উন্মুক্তভাবে নির্বাচন করার আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হবে।
তিনি জানান, তার তত্বাবধানে প্রথমবারের মত ইউনিয়ন পরিষদে সমাজসেবা অফিসের সেবা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখন যে কোন ভাতাভোগী নানা প্রয়োজনে ইউনিয়ন সমাজসেবা কক্ষ থেকে সেবা পেতে পারেন সহজেই। পাশাপাশি যেহেতু কচুয়া উপজেলায় প্রথম থেকেই সকল ধরনের ভাতা প্রদান করা হচ্ছে মোবাইল ফাইনান্সিং সিস্টেম ‘নগদ’ এর মাধ্যমে, সেহেতু তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় স্থানীয় নগদ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মী এখন নিয়মিত সম্পাহে এক দিন (প্রতি রবিবার) অফিসে আগত সকল ভাতাভোগীর নগদ একাউন্ট সম্পর্কিত যে কোন সমস্যার বিনামূল্যে সমাধান দেন।
তিনি জানান, কচুয়ার সমাজসেবা অফিসের সকল কার্যক্রমের প্রচারণার জন্য ফেইসবুকে একটি আইডি পরিচালনা করেন, যার ফলোয়ার সংখ্যা এখন প্রায় নয় হাজার (‘উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, কচুয়া’ নামে)। এর মাধ্যমে তিনি সকল প্রদেয় সেবার তথ্য নিয়মিত পৌছে দিচ্ছেন সকলের দোরগোড়ায়।
তিনি আরও জানান, তিনি প্রতি বছর ২ জানুয়ারী “জাতী সমাজসেবা দিবস” সহ প্রতিটা দিবস বর্ণাঢ্যভাবে উদযাপনের আয়োজন করেন। সর্বশেষ সমাজসেবা দিবসে তিনি এক ব্যতিক্রমী আয়োজন করেন। কচুয়ার শেষ্ঠ সমাজসেবক ক্যাটাগরিতে দশ জন স্বেচ্ছাসেবক নির্বাচিত করেন অনলাইন ভোটের মাধ্যমে। এছাড়া আর্তমানবতার সেবায় নিয়জিত কচুয়া শ্রেষ্ঠ সামাজিক সংগঠন হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রায় ৮০ টি সংগঠনকে সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট প্রদান করেন।
তিনি জানান, তার মাধ্যমে গত দুই বছরে প্রায় ১২ টি সামাজিক সংগঠন ও বেসরকারি এতিমখানা নিবন্ধিত হয়েছে এবং আরোও ১০ টির অধিক সংগঠন নিবন্ধন প্রকৃয়ায় রয়েছে। তিনি আশা করেন, একটা সময়ে কচুয়ার সকল সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন একত্রে কচুয়ার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে এবং তাদের পাশে থাকবে সমাজসেবা অধিদফতর।